‘অভিনয় নিয়ে সবসময় একটু ভয় পাই’
- ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুক্তি পাচ্ছে সাদিয়া ইসলাম মৌ অভিনীত ওয়েব ফিল্ম ‘সারার সংসার’। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মীর রাকিব হাসান

সাদিয়া ইসলাম মৌ- বিশ্বরঙ
‘সারার সংসার’ ওয়েব ফিল্মে মা-মেয়ের সম্পর্কের গল্প উঠে এসেছে। আপনার নিজেরও মেয়ে আছে। কাজটি করতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কি বিষয়টা আপনাকে স্পর্শ করেছে?
অবশ্যই করেছে। আমি এখন একজন মা। তাই সন্তানকে কীভাবে বুঝতে হয়, কীভাবে তার সঙ্গে কথা বলতে হয়— এসব নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই জানি। সন্তানের বয়স যা-ই হোক না কেন, তাদের সঙ্গে মা-বাবার সম্পর্কের জায়গা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব বন্ধুত্বপূর্ণ। সবসময় চেষ্টা করেছি যেন তারা আমার কাছে সব কথা বলতে পারে। ‘এটা বলা যাবে না’— কখনো এমন দূরত্ব তৈরি করিনি। এসব অভিজ্ঞতা ‘সারার সংসার’-এ কাজে লেগেছে। আলাদা করে কোথা ও থেকে অনুভূতিটা ধার করিনি। মা হওয়ার অভিজ্ঞতা আমার নিজের মধ্যেই আছে। তাই চরিত্রটি বুঝতে সুবিধা হয়েছে।
‘সারার সংসার’-এর গল্পে এমন কী পেয়েছিলেন, যেটি আপনাকে আগ্রহী করেছিল?
প্রথমে দেখি, স্ক্রিপ্টে আমার চরিত্র কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তারপর ভাবি, চরিত্রটি আমাকে মানাবে কি না এবং আমি সেটি যথাযথভাবে করতে পারব কি না। সত্যি বলতে, অভিনয় নিয়ে সবসময় একটু ভয় পাই। কারণ, অভিনয় আমার মূল জায়গা না। আমি অভিনয় শিখে আসিনি। হাতেগোনা কিছু কাজ করেছি। তাই কোনো স্ক্রিপ্ট দেখেই কখনো শতভাগ আত্মবিশ্বাসী হয়ে যাই না। আমি একটু ভীতু টাইপের মানুষ। তাই চরিত্র বাছাইয়ের সময় নিজের কাছে প্রশ্ন করি— আমি এটা ঠিকভাবে করতে পারব তো? আমাকে মানাবে তো? ‘সারার সংসার’-এর ক্ষেত্রে মনে হয়েছে, চরিত্রটির সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত হতে পারছি। তাই কাজটি করতে রাজি হয়েছি।
কাজী আনোয়ার হোসেনের ‘আর্তনাদ’ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয়েছে ‘সারার সংসার’। আগে কি উপন্যাসটি পড়া ছিল?
না, আগে পড়া হয়নি। অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর উপন্যাসটি পড়ে খুব ভালো লেগেছে। যদিও অনেক আগের এটি। তারপরও গল্পটার আবেগ ও সম্পর্কগুলো খুব চেনা লেগেছে। মনে হয়েছে, এখনো গল্পটার সঙ্গে দর্শক নিজেদের সংযোগ ঘটাতে পারবেন।
ব্যস্ততার মধ্যে কি বই পড়ার সময় হয়?
ব্যস্ততার কারণে বই পড়া হয় না— এটি পুরোপুরি ঠিক না। সত্যি বলতে, ছোটবেলা থেকেই আমার বই পড়ার অভ্যাস একটু কম। তবে মা আমাকে অনেক উৎসাহ দিতেন। তিনি জোর করে বই পড়াতেন। কিছু কিছু বইয়ের ক্ষেত্রে আমাকে বলতেন, ‘এটা পড়ো, ভালো লাগবে।’ কিন্তু আমি খুব দ্রুত বই শেষ করতে পারতাম না। একটু আলসেমিও ছিল।
পরিচালক আকা রেজা গালিব বলছিলেন, সময় মেনে চলার অভ্যাসটাই আপনার অন্যতম বড় গুণ। এটা কীভাবে তৈরি হলো?
এটি পুরোপুরি পারিবারিক শিক্ষা। ছোটবেলায় শিল্পকলায় আমাদের মহড়া থাকত। বাবাকে যদি বলতাম গাড়ি লাগবে, বাবা সবসময় নির্দিষ্ট সময় জানতে চাইতেন। একদিন বলেছিলাম, ‘১০টায় মহড়া, তবে ১০টা ৩০-এ গেলেও সমস্যা নেই।’ তখন বাবা বলেছিলেন, ‘সমস্যা না হলেও সময়মতো যাওয়া ভালো।’ শৈশবেই তার কথাটা মাথায় ঢুকে যায়। তখন থেকেই সময়ের ব্যাপারে খুব সচেতন আমি।
আপনার সমসাময়িক অনেকে বিদেশে স্থায়ী হচ্ছেন। কখনো কি এমন ভাবনা এসেছে?
আমার কখনোই বিদেশে স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। আমি খুব হোমসিক মানুষ। ছোটবেলা থেকেই বিদেশ যাওয়া হয়েছে, সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকেছি। কিন্তু কিছুদিন পরই দেশকে ভীষণ মিস করতাম। দেশের খাবার, মানুষ, পরিবার সবকিছু। তবে এখন মেয়েকে বাইরে পড়তে পাঠানোর পর বুঝতে পারছি, বাইরে পড়াশোনার বাস্তবতা অনেক কঠিন। তখন মাঝেমধ্যে মনে হয়, যদি ওদের বিদেশি পাসপোর্ট থাকত, হয়তো কিছু সুবিধা হতো।
আপনার সন্তানদের কি শোবিজে আসার আগ্রহ আছে?
মেয়ে ছোটবেলায় আমার সঙ্গে কিছু কাজ করেছিল, তবে সেটি অনেকটা জোর করে। ছেলে খেলাধুলার দিকে বেশি আগ্রহী। ফুটবল খুব সিরিয়াসলি খেলত। এখনো খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আছে। তবে ছেলে মাঝেমধ্যে বলে, ‘তোমার সঙ্গে একটা কাজ করতে চাই।’ কিন্তু পেশাগতভাবে মিডিয়ায় আসার আগ্রহ নেই তাদের।






