অন্যের উপকারে নিবেদিত ছিলেন নানা পাটেকর

সদ্যপ্রয়াত ভারতীয় অভিনেতা নানা পাটেকর
সদ্যপ্রয়াত ভারতীয় অভিনেতা নানা পাটেকর রুপালি পর্দায় রাজত্বের আগে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। প্রতিকূলতা ও সংগ্রামে শৈশব কেটেছে তার। ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার মুরুদ-জঞ্জিরায় এক মধ্যবিত্ত মারাঠি পরিবারে তিনি জন্ম নেন। তার প্রকৃত নাম বিশ্বনাথ পটেকর। বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী; যিনি বন্ধুর সঙ্গে যৌথ ব্যবসায় লোকসানে পড়লে সংসারে অর্থাভাব দেখা দেয়।
তাই স্কুলে পড়ার সময় সংসার খরচের দায়িত্ব পড়ে কিশোর নানার ওপরও। স্কুল থেকে ফিরে প্রতিদিন আট কিলোমিটার হেঁটে সিনেমার পোস্টার আঁকতে যেতেন তিনি। এভাবে রোজ আয় হতো ৩৫ টাকা। ২০২৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে এসব অজানা কাহিনি জানিয়েছিলেন নানা। পোস্টার তৈরির জন্য টাকার পাশাপাশি একবেলা খাবার পেতেন বিনামূল্যে। সেই খাবার নিয়ে আবার আট কিলোমিটার হেঁটে বাড়ি ফিরতেন। এভাবে প্রতিদিন ১৬ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হতো তাকে।
কনসার্টে ফেরার আভাস
১০ অক্টোবর ২০২৬
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমায় পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয়। আশি থেকে নব্বই দশকে ‘সালাম বোম্বে’, ‘অঙ্গার’, ‘পারিন্দা’, ‘প্রহার’-এর মতো চলচ্চিত্রের সুবাদে বলিউড অভিনেতাদের প্রথম সারিতে জায়গা করে নেন। ১৯৯১ সালে মুক্তি পায় নানা পাটেকর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘প্রহার’। এতে অভিনয়ও করেন তিনি। সিনেমাটির জন্য তিন বছর সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন নানা। শুটিং শেষে আবার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং কার্গিল যুদ্ধে দেশের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করেন।
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন রান্না করতে ভালোবাসেন নানা। মাঝেমধ্যে বন্ধু-বান্ধবদের নিজের হাতের রান্না খাওয়াতেন। বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। চাষবাসও করতেন। জমি থেকে উৎপাদিত ফসল বিক্রি থেকে চাষিদের মধ্যে টাকা ভাগ করে দিতেন। ১৯৭৮ সাল থেকে নানা পাটেকর যা উপার্জন করেছেন, সেসবের অনেকটাই দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়েছেন। অনেক সময় কোনো কোনো ফিল্মের পুরো পারিশ্রমিক তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে অনুদান দিয়েছেন।




