মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬
ভোটের লড়াইয়ে সামানজার

সামানজার সাঈদ - ইনস্টাগ্রাম
বাংলাদেশের হয়ে এবারের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন সামানজার সাঈদ। বায়োকেমিস্ট্রি ও বায়োটেকনোলজিতে পড়াশোনা করা এই সুন্দরী বর্তমানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ডে এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ভোটে সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, তিনি আছেন ১২ নম্বরে। তবে প্রকাশিত র্যাঙ্কিং নিয়মিত পরিবর্তন হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে মিস ওয়ার্ল্ডের অফিসিয়াল ভোটিং প্ল্যাটফর্মে তার ঝুলিতে দেখা গেছে ৭ হাজার ৬৫২ ভোট।
এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে ভোটে শীর্ষে আছেন কম্বোডিয়ার ইন লিকেনা। তার ভোট ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৪৫৮। দুই নম্বরে থাকা মিয়ানমারের হ্যান থেইন থেইন অং-এর ভোট সংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬৩।
মিস ওয়ার্ল্ডের এবারের ফরম্যাট অনুযায়ী, পিপলস চয়েস বিজয়ী সরাসরি টপ ৬-এ জায়গা করে নেবে। এ ছাড়া চার মহাদেশের রাউন্ড-১ বিজয়ীরা সরাসরি টপ ৪০-এ যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে বসবে গ্র্যান্ড ফিনালে। এবার মিস ওয়ার্ল্ডের ৭৫ বছর পূর্তি হবে। আসরে ১২০টির বেশি দেশের সুন্দরীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে দেশব্যাপী সচেতনতা তৈরিতে নিজের উদ্যোগ মিস ওয়ার্ল্ডের মঞ্চে তুলে ধরেছেন সামানজার। ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ অংশে ‘হাইজিন ফর হেলথ বাংলাদেশ’-এর কথা জানান তিনি।
মিস ওয়ার্ল্ডের ইউটিউবে প্রতিযোগীদের পরিচয় পর্বের ভিডিওতে বাংলাদেশকে তুলে ধরে সামানজার বলেন, ‘আমি গর্বের সঙ্গে মিস ওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, উর্বর সমতলভূমির দেশ বাংলাদেশ। পরিশ্রমী কোটি মানুষের অদম্য মানসিকতা এই দেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী দেশে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
শুধু পড়াশোনার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি সামানজার; গান, নাচ, ছবি আঁকা, খেলাধুলা, থিয়েটার ও জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেকে বিকশিত করতে চেয়েছেন। দুই বছর পেশাদার ফিটনেস কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। তার বাবা একজন ব্যবসায়ী, মা পেশায় চিকিৎসক ও অধ্যাপক। তাদের একমাত্র মেয়ে সামানজার চলতি বছর ষষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেসে বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রকল্পের জন্য চ্যাম্পিয়ন হন।
পরিচিতি ভিডিওতে সবশেষে সামানজার বলেন, ‘নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম ও জানার আগ্রহ থাকলে স্বপ্ন সত্যিই বাস্তবে পরিণত হতে পারে। আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি পৃথিবীর জন্য অনুপ্রেরণা তৈরি করি, যেখানে মানবিকতা পথ দেখাবে, সুযোগ পৌঁছে যাবে সবার কাছে এবং আশার কোনো সীমানা থাকবে না।’






