অনেক নাটকেরই এখন মূল আকর্ষণ মা চরিত্র

অভিনেত্রী মনিরা মিঠু। ছবি: সংগৃহীত
দুই দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয়ে দর্শকের ভালোবাসা কুড়িয়ে আসছেন মনিরা মিঠু। বর্তমান সময়ের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান।
এখন কী কী কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
৩০ জুলাই থাইল্যান্ড এসেছি। এখানে অনেক দিন থাকা হবে। সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি, মীর আরমান হোসেন, হাসিব হোসাইন রাখী, কে এম সোহাগ রানাসহ আরও কয়েকজন পরিচালকের নতুন কয়েকটি নাটকের শুটিং করব। দেশে ফিরে ২ সেপ্টেম্বর থেকে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘ফিরে আসার গল্প’ নাটকের ইউনিটে যোগ দেব। থাইল্যান্ড আসার আগে রুবেল হাসানের একটি নাটকের শুটিং করেছি। বলা যায়, টানা ব্যস্ততা চলছে। ভালো ভালো চরিত্রে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারছি, এজন্য বেশ লাগছে।
টানা মায়ের চরিত্র কতটা উপভোগ করছেন?
অনেক নাটকেরই মূল আকর্ষণ এখন মায়ের চরিত্র। এত সুন্দর সুন্দর চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি, এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।
নাটকে নারীকেন্দ্রিক চরিত্রের গুরুত্ব বাড়ছে। আপনি কী মনে করেন?
আমার ক্ষেত্রে এটি নতুন কিছু নয়। গত ২৪ বছর ধরেই গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্রে অভিনয় করছি। শুরু থেকেই এই সৌভাগ্য আমার হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের ‘বুয়া বিলাস’ প্রায় একক নাটকই বলা যায়। সবাই এক-দুটি দৃশ্যে এসেছে, পুরো নাটকটাই ছিল আমার চরিত্রকে ঘিরে। ‘বৃক্ষমানব’-এর মতো কাজও করেছি। তাই বরাবরই এদিক দিয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।
দর্শকের মনে গেঁথে আছে। এমন কোন কোন কাজের কথা বলবেন?
আমার আজকের অবস্থানে আসার পেছনে হুমায়ূন আহমেদ স্যারের অবদান সবচেয়ে বেশি। মানুষ এখনো আমাকে দেখলে প্রথমে হুমায়ূন স্যারের নাটকের কথাই বলে। এরপর ‘হাউজফুল’, ‘আমাদের গল্প’, ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’, ‘এটা আমাদেরই গল্প’, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’— এসব নাটকের জন্যও মানুষ আমাকে নিয়ে কথা বলে। এই সময়ের কাজগুলো কতদিন মানুষ মনে রাখবে, সেটি সময়ই বলে দেবে।
আপনার ভাই প্রয়াত অভিনেতা চ্যালেঞ্জারকে সহশিল্পীরা কতটা মনে রেখেছে?
আমার ভাইয়ের মিডিয়ায় ক্যারিয়ার ছিল মাত্র ছয় বছরের; কিন্তু মনে হয় যেন ৬০ বছর কাজ করেছেন। যখন কোথাও দাঁড়িয়ে স্ক্রিপ্ট পড়ি, তখন অনেকে বলেন, ‘একদম চ্যালেঞ্জার ভাইয়ের মতো লাগছে।’ অনেক চরিত্রে বয়স বাড়ানোর জন্য চুল পাকানোর মেকআপ করতে হয়, তখনো অনেকে বলেন, ‘চ্যালেঞ্জার ভাইয়ের মতো দেখাচ্ছে।’ সবাই তার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি ভীষণ ভালো মানুষ ছিলেন। ইউনিটের শিল্পী-কলাকুশলীদের গাড়িতে তুলে দিতেন, খাওয়াতেন। কেউ হোস্টেলে থাকলে খাবার কিনে দিতেন, যেন রাতে খেতে পারে। এমন অসংখ্য গল্প এখনো সবাই বলেন।
আপনার পরিবারের কথা শুনি...
আমার দুই ছেলে। বড় ছেলের স্ত্রী আছে। আমার নাতি উৎসবের বয়স আড়াই বছর। আমার যদি কিছু হয়ে যায়, তারা সেটি সামলে নিতে পারবে তো? এ চিন্তাই আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায়। মৃত্যুই তো একমাত্র বাস্তব; কিন্তু মা হিসেবে সবসময়ই মনে হয়, সন্তানরা আমাকে ছাড়া কীভাবে থাকবে! এই ভাবনা বুকের ভেতর মোচড় দেয়।
আপনার ছোট ছেলে মোহাইমিন ইসলাম গল্প অভিনয় শুরু করেছিলেন। চালিয়ে গেলেন না কেন?
সত্যি বলতে, সে ভালো পরিচালকের হাতে পড়েনি। সিনেমায় প্রযোজক-পরিচালকসহ সবকিছুই খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম অভিজ্ঞতা ভালো না হওয়ায় সে আর আগ্রহ পায়নি। এখন অনার্স শেষ করে প্রাইম ব্যাংকে চাকরি করছে। তার আর অভিনয়ে আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যতই বলি, সে ক্যামেরার সামনে আসতে রাজি না। ছোটবেলা থেকেই ছেলেটা খুব ইন্ট্রোভার্ট। এমনকি শুটিংয়ে আমাকে নিতে এলে যদি বলি, ‘ওপরে আসো’, তখনো আসে না। খুব লাজুক ছেলে। মানুষের সঙ্গে খুব ভদ্রভাবে কথা বলে, কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে চায় না।
অভিনয়ের বাইরে সময় কাটে কীভাবে?
আমার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই, বিশেষ করে আমার নাতি উৎসবকে নিয়ে মেতে থাকি। এ ছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাই। এভাবেই অবসর কাটে।
ক্যারিয়ারে আপনার কোনো অপূর্ণতা আছে?
না, শিল্পীজীবনে আমার কোনো অপূর্ণতা নেই। মনে হয়, সৃষ্টিকর্তা আমাকে অনেক কিছুই করার সুযোগ দিয়েছেন। তাই কোনো আক্ষেপও নেই। যা পেয়েছি, তাতেই আমি তৃপ্ত।




