যে চরিত্রের জন্য টম ক্রুজের ৪০ বছরের অপেক্ষা!

ট্রেলার মুক্তির অনুষ্ঠানে টম ক্রুজ। ছবি: টুইটার
সাড়ে চার দশকের ক্যারিয়ারে সুদর্শন টম ক্রুজকে দেখে অভ্যস্ত দর্শক। সেই টমের একি হাল! এবার একেবারে ভিন্ন এক রূপে বড়পর্দায় হাজির হচ্ছেন ‘মিশন ইম্পসিবল’ নায়ক। লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত সিনেমাকন ইভেন্টে ‘ডিগার’ ছবির প্রথম ঝলক দেখিয়ে দর্শকদের চমকে দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘৪০ বছর লেগেছে আমাকে ডিগার রকওয়েলের চরিত্রে প্রবেশ করার সুযোগ পেতে।’
তার এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, চরিত্রটি কতটা ব্যতিক্রমী ও চ্যালেঞ্জিং। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অস্কারজয়ী নির্মাতা আলেহান্দ্রো গনজালেস ইনারিতু। টম ক্রুজকে এমন চরিত্রে এর আগে দেখা যায়নি।
কম্ব-ওভার ধূসর হয়ে যাওয়া পাতলা চুল এবং পেট বের করা এক তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। তার চরিত্রের নাম ডিগার রকওয়েল। যিনি একজন ক্ষমতাধর তেল ব্যবসায়ী। যার কর্মকাণ্ড একটি ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনে। এমনকি তা পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকিও তৈরি করে।
ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জন গুডম্যান। তিনি অসুস্থ অবস্থায় ডিগার রকওয়েলকে সংকট সামাল দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
অন্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন সান্দ্রা হুলার, মাইকেল স্টুলবার্গ, জেসি প্লেমনস, সোফি ওয়াইল্ড, রিজ আহমেদ এবং এমা ডার্সি। তবে ট্রেলারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে টম ক্রুজের এই সম্পূর্ণ অচেনা রূপ।
পরিচালক ইনারিতু বলেছেন, টম ক্রুজকে সবাই ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট ও অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য চেনেন। কিন্তু এই চরিত্রে অভিনয় করা তার জন্য এক ভিন্ন ধরনের সাহসিকতার পরীক্ষা।
ট্রেলারের দৃশ্যে দেখা যায়, টম ক্রুজ তার বিলাসবহুল বাড়িতে অসুস্থ বিড়ালকে আদর করছেন, ভারী শরীর নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আবার কোথাও যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং মেরু অঞ্চলের বরফ ভেঙে পড়ছে। পুরো গল্পজুড়ে রয়েছে ব্যঙ্গাত্মক ও অস্থির এক পরিবেশ, যা অনেকটা ‘ড. স্ট্রেঞ্জলাভ’ ছবির মতো রাজনৈতিক ব্যঙ্গের ইঙ্গিত দেয়।
ইনারিতুর সঙ্গে এই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন সাবিনা বারম্যান, নিকোলাস জিয়াকোবোন এবং আলেকজান্ডার দিনেলারিস।
‘ডিগার’ টম ক্রুজের জন্য ২০১৭ সালের পর প্রথম নন-ফ্র্যাঞ্চাইজি বড় চলচ্চিত্র। এর আগে তিনি মূলত কাজ করেছেন ‘মিশন : ইম্পসিবল’ সিরিজ এবং ‘টপ গান : ম্যাভেরিক’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবির নতুন আয়োজনে। তার ক্যারিয়ারে রয়েছে ‘আমেরিকান মেড’ এবং বিতর্কিত ‘দ্য মমি’র মতো সিনেমাও।
১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিশাল বাজেটে নির্মিত ‘ডিগার’কে ঘিরে এখন থেকেই বড় প্রত্যাশা ও ঝুঁকির আলোচনা চলছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্স স্টুডিও
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় বাজেটের মৌলিক ছবিতে একাধিকবার ব্যর্থতার মুখ দেখেছে। এর মধ্যে ‘সিনারস’ বিশ্বব্যাপী বড় সাফল্য পেয়েছে, আবার ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ না করলেও পুরস্কারের মঞ্চে সেরা ছবির স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
অন্যদিকে ‘দ্য ব্রাইড’, ‘মিকি ১৭’ এবং ‘জোকার: ফলি আ দো’ বড় ধরনের বাণিজ্যিক ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ওয়ার্নার ব্রাদার্সের আসন্ন তালিকায় রয়েছে অ্যান হ্যাথাওয়ে অভিনীত ‘দ্য এন্ড অব ওক স্ট্রিট’, নিকোল কিডম্যান ও সান্দ্রা বুলক অভিনীত ‘প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক ২’, এবং জে জে আব্রামস পরিচালিত ‘দ্য গ্রেট বিয়ন্ড’।
সূত্র: ভ্যারাইটি



