‘গুড মর্নিং ওয়ার্ল্ড’ তারকা জোবি বেকার আর নেই

জোবি বেকার
হলিউডের সোনালি যুগের আরও একজন পরিচিত মুখ বিদায় নিলেন। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকের জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা ও চিত্রশিল্পী জোবি বেকার আর নেই।
গত ২২ জুন নিউইয়র্কের ইয়োঙ্কার্সের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। অভিনেতার নাতনি সোফিয়া সিলভারম্যান এই দুঃখজনক খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
সিনেমার পাশাপাশি জোবি বেকারের জীবনের গল্পটিও ছিল বেশ নাটকীয়। ১৯৩৪ সালে কানাডার মন্ট্রিয়লে জন্ম নেওয়া জোবি ছোটবেলাতেই মাকে হারান। এরপর বাবার সাথে চলে যান হাওয়াইয়ের ওআহুতে। ১৯৪১ সালে পার্ল হারবার আক্রমণের সময় তাদের বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। এরপর সেখান থেকে সান ফ্রান্সিসকোতে চলে আসেন।
পড়াশোনা শেষে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসে নাইটক্লাবে কমেডিয়ান হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন জোবি। পরবর্তীতে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কাজ করার সময় কিংবদন্তি কমেডিয়ান লু কস্টেলোর পরিবারের সাথে তার পরিচয় হয়। লু কস্টেলো নিজেই জোবি বেকারের ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং তাকে হলিউডে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেন।
১৯৫৫ সালে ‘টার্গেট জিরো’ সিনেমা দিয়ে হলিউডে পা রাখেন জোবি। এরপর রক এন রোল সম্রাট এলভিস প্রেসলির বিখ্যাত সিনেমা ‘গার্ল হ্যাপি’ (১৯৬৫)-তে ঢোলবাদক ‘উইলবার’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দারুণ জনপ্রিয়তা পান।
এছাড়া ‘গিজের্ট’ সিরিজের বেশ কয়েকটি সিনেমা এবং ‘দ্য লাস্ট অ্যাংরি ম্যান’, ‘দ্য ওয়াকিইস্ট শিপ ইন দ্য আর্মি’র মতো বহু জনপ্রিয় সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন।
বিয়ে সারলেন আমির খান
০৫ জুলাই ২০২৬
টেলিভিশনে তার সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ১৯৬৭ সালে সিবিএস চ্যানেলের জনপ্রিয় কমেডি সিরিজ ‘গুড মর্নিং ওয়ার্ল্ড’-এর মাধ্যমে। এই সিরিজে তিনি একজন রেডিও জকির চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন।
মজার ব্যাপার হলো, নির্মাতারা এই শো-টির নাম প্রথমে ‘দ্য জোবি বেকার শো’ রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জোবি ভীষণ লাজুক ছিলেন এবং তারকাখ্যাতির চাপ নিতে চাননি বলে নির্মাতাদের অনুরোধ করে নাম পরিবর্তন করান। কাকতালীয়ভাবে, এই সিরিজের সহ-অভিনেতা রনি শেল মারা যাওয়ার ঠিক ১০ দিন পরেই জোবি বেকারও মারা গেলেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি জোবি বেকার ছিলেন একজন দুর্দান্ত চিত্রশিল্পী। বিখ্যাত লেখক রে ব্র্যাডবেরি একবার এক গ্যালারিতে জোবির আঁকা ছবি দেখে মুগ্ধ হন এবং পরে তাকে একটি নাটকে অভিনয়ের সুযোগও করে দেন।
ব্যক্তিজীবনে জোবি চারবার বিয়ে করেছেন। তার শেষ স্ত্রী মেগান, সন্তান, সৎ সন্তান ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি। ক্যারিয়ারে এতো নাম-যশ পেলেও জোবি সবসময় নিজেকে একজন অভিনেতার চেয়ে মনে-প্রাণে একজন ‘চিত্রশিল্পী’ ভাবতেই বেশি পছন্দ করতেন। তার প্রয়াণে হলিউডের একটি যুগের অবসান ঘটলো।





