মাইকেলের বায়োপিকে বড় কাটছাঁট, নতুনভাবে শুটিং

পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ মুক্তির দ্বারপ্রান্তে। তার আগেই জানা গেল, নতুন করে শুটিং করে সিনেমায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল, ছবিটি শুরু হবে ১৯৯৩ সালের এক অন্ধকার অধ্যায় দিয়ে। ‘থ্রিলার’ অ্যালবামের সাফল্যের এক দশক পর মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। মূল চিত্রনাট্যে এমন একটি দৃশ্য ছিল, যেখানে তিনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে আছেন, আর পেছনে পুলিশের গাড়ির আলো ঝলসে উঠছে।
কিন্তু সেই দৃশ্যসহ তদন্ত-সংক্রান্ত সব অংশই বাদ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ এপ্রিল মুক্তির জন্য প্রস্তুত এই ছবিতে আর শিশু নির্যাতনের অভিযোগের কোনো উল্লেখ রাখা হয়নি। এর পেছনে বড় কারণ, জ্যাকসনের সম্পত্তি ব্যবস্থাপক এবং অভিযোগকারী জর্ডান চ্যান্ডলারের মধ্যে হওয়া পুরনো একটি আইনি চুক্তি।
ওই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো চলচ্চিত্রে তার নাম বা ঘটনা তুলে ধরা যাবে না। বিষয়টি দেরিতে জানায় নির্মাতাদের পুরো গল্প নতুন করে সাজাতে হয়েছে। ফলে ছবির মুক্তির তারিখও কয়েক দফা পিছিয়ে যায়—প্রথমে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর, পরে চূড়ান্তভাবে ২০২৬ সালের বসন্তে নির্ধারণ করা হয়।
নতুন করে প্রায় ২২ দিন শুটিং করতে হয়েছে। এতে বাজেট বেড়ে যায় প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি ডলার। ছবিটির মোট বাজেট ধরা হয়েছিল প্রায় ১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, আর অতিরিক্ত এই খরচ বহন করেছে জ্যাকসনের এস্টেট। নতুন সংস্করণে ছবির সমাপ্তি একেবারেই ভিন্ন। বিতর্কিত সময়ের বদলে গল্প শেষ হবে মাইকেলের ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে—বিশেষ করে ‘ব্যাড ট্যুর’-এর এক পারফরম্যান্স দিয়ে। সেখানে মঞ্চে ওঠার আগে তার প্রস্তুতির দৃশ্য দেখানো হবে।
ছবিটি মূলত তার সংগীতজীবনের উজ্জ্বল দিকগুলোতেই বেশি জোর দিয়েছে। পাশাপাশি দেখানো হয়েছে তার পারিবারিক সম্পর্ক- বিশেষ করে তার কঠোর বাবা জো জ্যাকসনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব। এখানে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে তিনি চাইতেন না যে মাইকেলের একক ক্যারিয়ার ‘জ্যাকসন ফাইভ’ ব্যান্ডের ক্ষতির কারণ হোক। এ ছাড়াও ১৯৮৪ সালে ‘পেপসি’ বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় মাইকেলের মাথায় আগুন লেগে গুরুতর আঘাত পাওয়ার ঘটনাও দেখানো হয়েছে। সেই সময় থেকেই তিনি ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
ছবিতে মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার ভাতিজা জাফার জ্যাকসন এবং তার বাবার চরিত্রে রয়েছেন কোলম্যান ডোমিঙ্গো। তবে ব্যাপক পরিচিত মুখ তার বোন জ্যানেট জ্যাকসনকে এই ছবিতে রাখা হয়নি।
প্রযোজনার সময় জ্যাকসনের আইনজীবী জন ব্রাঙ্কা এবং আর্কাইভ বিশেষজ্ঞ কারেন ল্যাংফোর্ড নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছেন। মাইকেলের ছেলে প্রিন্স জ্যাকসন নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে সেটে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন।
‘মাইকেল’ ছবির প্রযোজক গ্রাহাম কিং জানিয়েছেন, ছবির প্রথম সংস্করণ ছিল সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি দীর্ঘ। তাই ভবিষ্যতে এটিকে একাধিক অংশে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি বাদ পড়া অংশ ব্যবহার করে সিক্যুয়েল তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে, যেখানে ‘ডেঞ্জারাস’ ও ‘ইনভিনসিবল’ অ্যালবাম এবং নেভারল্যান্ড র্যাঞ্চের গল্প দেখানো হতে পারে।
বক্স অফিসেও ছবিটি নিয়ে বড় আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই এটি ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি আয় করতে পারে—যা ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ ছবির উদ্বোধনী আয়ের চেয়েও বেশি। প্রযোজনা সংস্থার লক্ষ্য, বিশ্বব্যাপী অন্তত ৭০ কোটি ডলার আয় করা।
সবকিছু ঠিক থাকলে, মাইকেল জ্যাকসন আবারও বড় পর্দায় তার বিখ্যাত ‘মুনওয়াক’ দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করবেন-তবে এবার বিতর্ক নয়, বরং তার সংগীত ও সাফল্যের গল্পই বেশি গুরুত্ব পাবে।
সূত্র: ভ্যারাইটি

