সন্তানদের জন্য ক্যারিয়ার থামিয়েছিলেন জেনিফার

জেনিফার গার্নার
ক্যারিয়ার নাকি সন্তান, একজন সফল কর্মজীবী নারীর জীবনে এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখা কতটা কঠিন, তা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হলিউডের মেগাস্টার, সবার জন্যই সমান প্রযোজ্য। সম্প্রতি নিজের ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় হঠাৎ অভিনয় থেকে দূরে চলে যাওয়া এবং সাবেক স্বামী বেন অ্যাফ্লেক এর সাথে ডিভোর্সের পর একাকী সন্তানদের বড় করার হাড়ভাঙা গল্প শোনালেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জেনিফার গার্নার। বিখ্যাত ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ইনস্টাইল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে তিনি নিজের সুবর্ণ ক্যারিয়ারকেও ম্লান করতে দ্বিধা করেননি।
২০০৫ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন হলিউডের দুই সুপারস্টার বেন অ্যাফ্লেক এবং জেনিফার গার্নার। দীর্ঘ ১০ বছর সংসার ও তিন সন্তান জন্মের পর ২০১৫ সালে এই তারকা দম্পতির সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং ২০১৮ সালে তাদের আইনি বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স হয়ে যায়। জেনিফার জানান, ‘বাচ্চারা যখন একদম ছোট ছিল, আমি তখনই কাজ অনেক কমিয়ে দিয়েছিলাম। আর আমাদের ডিভোর্সের পর পরিবারে যে ঝড়টা বয়ে গিয়েছিল, তারপর তো আমি দীর্ঘদিন ক্যামেরার সামনেই দাঁড়াইনি। একজন মা হিসেবে ওই কঠিন সময়ে সন্তানদের পাশে থাকাটা আমার কাছে বেশি জরুরি ছিল। আমি মাতৃত্বের পেছনে আমার জীবনের সবকিছু সঁপে দিয়েছিলাম।’
তবে ডিভোর্স হলেও বাচ্চাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই সাবেক দম্পতি কখনোই একে অপরের প্রতি কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করেননি, বরং ‘কো-প্যারেন্টিং’-এর মাধ্যমে একসাথে বাচ্চাদের আগলে রেখেছেন।
দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে সম্প্রতি ‘দ্য ফাইভ-স্টার উইকেন্ড’ সিরিজের মাধ্যমে আবারও লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ায় কামব্যাক করেছেন জেনিফার গার্নার। নতুন করে কাজে ফেরার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের এই গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডটা বড্ড স্বার্থপর। এখানে সবকিছু চলে শুটিংয়ের শিডিউল মেনে। শুটিংয়ে থাকলে বাচ্চার স্কুলে কী হচ্ছে, তাকে কে আনতে যাবে বা রাতে বাচ্চার সাথে ডিনার করা যাবে কি না তা ভাবার সময় থাকে না। তবে এতদিন পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে আমি নিজের হারিয়ে যাওয়া সত্তা খুঁজে পেয়েছি।’
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে কাজ এবং সংসার একসাথে সামলাতে গিয়ে অনেক মা-ই এক ধরণের মানসিক অপরাধবোধ বা গিল্ট ট্রিপে ভোগেন। তবে জেনিফার গার্নার এ যুগের মায়েদের এক নতুন বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন— কাজের জন্য বাচ্চাদের সময় দিতে না পারলে তিনি এখন আর অপরাধবোধে ভোগেন না বা বাচ্চাদের কাছে ‘দুঃখিত’ বলেন না।
তার বদলে জেনিফার তার সন্তানদের ধন্যবাদ জানান তার কাজকে সম্মান করার জন্য। ৫৪ বছর বয়সী এই মার্কিন ডিভার মতে, ‘জীবনে কঠোর পরিশ্রম করা যেমন সত্যি, তেমনই ভুল করা বা হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়াটাও জীবনেরই অংশ। সবকিছুর মাঝেই বাঁচতে শিখতে হয়।’
গার্নারের এই সাহসী ও বাস্তবসম্মত মন্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সিঙ্গেল মাদার বা একাকী মায়েদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে।









