মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে নতুন সিনেমায় কী আছে, কেন এত আলোচনা?

‘মাইকেল’ প্রযোজনা করেছেন গ্রাহাম কিং, যিনি ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ দিয়ে বড় সাফল্য পেয়েছিলেন।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত রয়েছে পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের। তার বর্ণিল কিন্তু রহস্যময় জীবন নিয়ে এবার বড় পর্দায় আসছে নতুন সিনেমা। সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে যেমন উত্তেজনা আছে, তেমনি শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্কও। সবাই এখন একটাই প্রশ্ন করছেন সিনেমায় কি তুলে ধরা হবে তার জীবনের সব অন্ধকার দিক?
বিখ্যাত ব্যান্ড ‘কুইন’ এর গায়ক ফ্রেডি মার্কারির জীবন নিয়ে তৈরি হয়েছিল ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’। অনেক ঝামেলার পর মুক্তি পেলেও সিনেমাটি বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল এবং জিতেছিল অস্কারে চারটি পুরস্কার। সেই সিনেমার প্রযোজক গ্রাহাম কিং এবার নিয়ে আসছেন মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক। এবার পপ রাজার জীবন দিয়ে বাজিমাত করতে চাইছেন তিনি।
এই সিনেমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জ্যাকসনের ওপর ওঠা শিশু নির্যাতনের অভিযোগগুলো। ১৯৯৪ সালে তিনি অর্থের বিনিময়ে আদালতের বাইরে একটি মামলার রফা করেছিলেন এবং ২০০৫ সালে আরেকটি মামলায় আদালত তাকে ঘোষণা করেন নির্দোষ। জ্যাকসনের পরিবারের আইনজীবীরা সবসময় দাবি করে আসছেন যে, মাইকেল সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন।
অভিযোগ থাকলেও জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি জ্যাকসনের। আজও স্পটিফাইতে প্রতি মাসে তার গান শোনেন প্রায় সাড়ে ৬ কোটির বেশি মানুষ। লাস ভেগাস থেকে শুরু করে ব্রডওয়ে সবখানেই হাউসফুল থাকে তার নামে চলা শো-গুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিনেমাটি আয়ের দিক থেকে ছাড়িয়ে যাবে আগের সব মিউজিক্যাল বায়োপিককে।
সিনেমাটি পরিচালনা করছেন ‘ট্রেনিং ডে’ খ্যাত পরিচালক অ্যান্টোনি ফুকুয়া। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, পর্দায় মাইকেল জ্যাকসন সাজবেন তারই আপন ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। প্রযোজকরা জানিয়েছেন, সিনেমার সৃজনশীল কাজে জ্যাকসনের পরিবার কোনো হস্তক্ষেপ করেনি, তারা পুরো বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছেন পরিচালক ও লেখকের ওপর।
সমালোচকরা বলছেন, জ্যাকসনের জনপ্রিয়তা কখনোই কমবে না। এর পেছনে বড় কারণ হলো তার অভাবনীয় নাচ এবং গান গাওয়ার স্টাইল। এ ছাড়া অনেকে মনে করেন, ছোটবেলায় বাবার কাছে নির্যাতিত হওয়া বা খুব দ্রুত মারা যাওয়া তাকে মানুষের কাছে পরিণত করেছে এক ধরণের সহানুভূতির পাত্রে ।
২০১৯ সালে ‘লিভিং নেভারল্যান্ড’ নামে একটি ডকুমেন্টারি মুক্তি পায়, যেখানে দুজন ব্যক্তি দাবি করেন যে জ্যাকসন তাদের যৌন হয়রানি করেছিলেন ছোটবেলায়। এই সিনেমাটির কাজের সময় সেই বিতর্ক আবার এসেছে সামনে। অবশ্য এই ডকুমেন্টারিকে স্রেফ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিয়েছে জ্যাকসন এস্টেট।
শোনা গিয়েছিল, সিনেমার শেষ দিকে জর্ডান চ্যান্ডলারের সেই আলোচিত স্ক্যান্ডাল বা কেলেঙ্কারির ঘটনা দেখানো হবে। কিন্তু সিনেমার কাজ শেষ হওয়ার পর, আইনগত কারণে বাদ দিতে হয়েছে সেই অংশগুলো। কারণ কোনো সিনেমায় এই ঘটনা বা চ্যান্ডলারের নাম ব্যবহার করা যাবে না এমনটাই বলা ছিল ১৯৯৪ সালের চুক্তিতে।
বাদ পড়া দৃশ্যগুলো আবার নতুন করে শুট করতে এবং কাহিনী পরিবর্তন করতে বাড়তি খরচ হয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার। সেই সঙ্গে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে মুক্তির তারিখ। এখন খবর পাওয়া গেছে যে, সিনেমাটি মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের এপ্রিলে। স্টুডিওর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম ভাগে মূলত মাইকেলের রাজা হয়ে ওঠার গল্প দেখানো হবে এবং পরের ভাগে থাকবে হয়তো বিতর্কিত বিষয়গুলো আসার সুযোগ।
আগামী ২২ এপ্রিল যুক্তরাজ্যে এবং ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে সিনেমাটি। এখন দেখার বিষয়, ভক্তরা তাদের প্রিয় পপ রাজাকে কীভাবে গ্রহণ করেন বড় পর্দায়।

