গরিব মানুষের চাদরের নিচে ৫-১০ হাজারের বান্ডিল ঢুকিয়ে দিয়ে আসতেন ময়ূরী!

ময়ূরী
একসময়ের আলোচিত-সমালোচিত অভিনেত্রী ময়ূরী দরিদ্র মানুষের জন্য ছিলেন দিলখোলা, রাস্তার পাশের অসহায় ছিন্নমূল মানুষের চাদরের নিচে ৫-১০ হাজার টাকার বান্ডিল ঢুকিয়ে দিয়ে আসতেন— এমনটাই দাবি করলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা শ্রাবণ শাহ। সরাসরি ময়ূরীর সঙ্গে চলচ্চিত্রের পর্দায় অভিনয় না করলেও তার সঙ্গে বিভিন্ন স্টেজ শোতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
শ্রাবণ স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, ‘২০০৯ সালের কথা। তখন আমি আর ময়ূরী স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ততার এক ভিন্ন সময় পার করছিলাম। ব্যস্ততা কতটা ছিল, সেটা আজকের দিনে বলে বোঝানো কঠিন। রাত ১০টার মধ্যে একটি শো শেষ করে প্রায় ১০০–১৫০ কিলোমিটার দূরের আরেকটি মঞ্চে রাত ১২টা–১টার মধ্যে পৌঁছে পারফর্ম করতাম। সেখান থেকে আবার ভোর ৪টার দিকে আরও প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের আরেকটি অনুষ্ঠানে উঠতে হতো।’
ময়ূরীর উদারতা উল্লেখ করে এই অভিনেতা বলেছেন, ‘এমনও অনেক সময় গেছে, যখন টানা তিন মাস স্টেজ শোর ব্যস্ততায় ঢাকায় ফেরার সুযোগই হয়নি। তিন মাস পর ঢাকায় ফিরে মোবাইল ফোন বন্ধ করে টানা ঘুমাতাম। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার অঞ্চলে শো থাকলে একটি বিষয় প্রায়ই দেখতাম। গভীর রাত—একটা, দেড়টা কিংবা দুইটা। ময়ূরী নিজেই গাড়ি চালিয়ে আমাকে নিয়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে যেত। প্রচণ্ড শীতের রাতে রাস্তার পাশে কিংবা সৈকতের ধারে ঘুমিয়ে থাকা অসহায় মানুষগুলোর চাদরের নিচে নিঃশব্দে ৫-১০ হাজার টাকার বান্ডিল করে রেখে আসত, আর চুপচাপ কাঁদত।’
ময়ূরীর দান করার প্রবণতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এমনটাই তুলে ধরলেন শ্রাবণ। বললেন, ‘তার ভাই রনি তখন লন্ডনে পড়াশোনা করতেন। সেই সুবাদে ময়ূরীর জন্য অনেক দামি চাদর ও জ্যাকেট পাঠাতেন। কিন্তু সেগুলোর অনেকগুলোই নিজের কাছে না রেখে ঘুমন্ত অবস্থায় শীতার্ত মানুষের গায়ে জড়িয়ে দিয়ে আসত।’
শ্রাবণ ময়ূরীর সঙ্গে স্টেজ শো করলেও তাদের মধ্যে এখন কোনো যোগাযোগ নেই। কেউ কেউ তাদের দুজনের সম্পর্কের গুঞ্জনও তুলেছিলেন। ময়ূরী এখন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। শ্রাবণ বলছেন, ‘এমনও অসংখ্য স্টেজ শো দেখেছি, যেখানে পারিশ্রমিকের লাখ লাখ টাকা গরিব, অসহায় কিংবা অসুস্থ মানুষের হাতে দিয়ে আসত। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এসবের কোনো প্রচার ছিল না। কোনো ক্যামেরা ছিল না, কোনো সংবাদ ছিল না; বরং নীরবতাকেই বেছে নিয়েছিলেন। আজও যতদূর জানি, এসব নিয়ে আজও কখনো কোথাও কিছু বলেননি।’
মূলত ১৭ বছর পূর্বের একটি ছবি পেয়ে এই এসব কথা উল্লেখ করেছেন চলচ্চিত্রের এই অভিনেতা। শ্রাবণ বলছেন, ‘আজ বহু বছর পর পুরনো এই ছবিটি হাতে পেয়ে সেই দিনগুলোর অসংখ্য স্মৃতি আবার মনে পড়ে গেল। দেখতে দেখতে ১৭ বছর পার হয়ে গেল, আর আমার কাছে মনে হলো সেদিনের ঘটনা, সময় কত দ্রুত চলে যায়।’







