আমার সাম্প্রতিক জন্ম ২০২৪ সালে : শাওন

শাওন
আজ জন্মদিন অভিনেত্রী, নির্মাতা ও স্থপতি মেহের আফরোজ শাওনের। বিশেষ এই দিনে নিজের জন্ম, শৈশব, পরিবার, মাতৃত্ব, জীবনের কঠিন সময় এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প তুলে ধরেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়কে ‘নতুন জন্ম’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন শাওন।
জন্মস্থান নিয়ে শাওন লিখেছেন, ‘চট্টগ্রামে জন্ম হলেও সব সার্টিফিকেটে জন্মস্থান হিসাবে জামালপুরের নাম দেয়া। কাজটা করেছেন আমার বাবা! নিজ এলাকা জামালপুরের প্রতি ওনার এই পক্ষপাতের কারণে আমার জন্মস্থান বদলে গেলেও চট্টগ্রামের জন্য আমার নাড়ীর টান থেকেই গেল।’
নিজের জন্মের সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি লিখেছেন, ‘প্রখ্যাত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (Gynecologist) এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. সৈয়দা নুরজাহান ভূঁইয়ার হাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আমার জন্মের সময়ের অনেক গল্প মা-বাবার কাছ থেকে শুনেছি।’
মায়ের কাছে শোনা জন্মের গল্পও তুলে ধরেছেন শাওন। তিনি বলেছেন, ‘মোটাসোটা, গোল্লা আমি নাকি ১৮ ঘণ্টা লেবার পেইন দিয়েও পৃথিবীর আলো দেখতে চাইছিলাম না, তাই আম্মুর পেটটা কেটেই ডাক্তার সাহেব আমাকে বের করে বললেন ‘মেয়ে বড়ই আলসে হবে। জন্মের আগেই মাকে যা কষ্ট দিল!’ (ওনার কথা ১০০ ভাগ সঠিক)।
বাবার ব্যবসায়িক জীবনের শুরুর একটি গল্পও উল্লেখ করেছেন শাওন। বললেন, ‘আব্বু তখন স্টিল ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন এবং ইস্টার্ন কেবলসের চাকরি ছেড়ে ব্যবসার চেষ্টা করছেন। জন্মের পর আমাকে কোলে তুলে নেওয়ার পরপরই নাকি তিনি তার কোনো একটি কাজের বড়সড় বিল নেবার ডাক পেয়েছিলেন!! সেই থেকে নাকি তার ব্যবসায়িক সফল্যের শুরু।’
শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘খুব চঞ্চল ছিলাম, হাত-পা বেশি ছোড়াছুড়ি করতাম বলে আব্বু বলেন আমি নাকি তার কোলে কই মাছের মতো ‘খলবল’ করছিলাম! কই মাছ!’
এরপর নিজের শিক্ষা ও ব্যক্তিজীবনের নানা অধ্যায়ের কথা তুলে ধরে শাওন লিখেছেন, ‘ঢাকায় এসে প্রথমে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল, পরে ভিকারুননিসা নূন স্কুলে ১২ বছর কাটিয়ে, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক থেকে স্থাপত্যে স্নাতক। তার পাশাপাশি নাচ, গান, নাটক-সিনেমা, প্রণয়, পরিণয়, দুই সন্তানের জন্ম। হঠাৎ ধূমকেতুর মতো আমাদের জীবনে কর্কটরোগের আগমন, ১১ মাসের তুমুল যুদ্ধের পর ২০১২ সালের জুলাইয়ে একজনের না ফেরার দেশে চলে যাওয়া।’
ওই সময়কে জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় মনে হলেও পরবর্তী সময়ে আরও অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়ে শাওন বলেছেন, ‘ভেবেছিলাম ওটাই জীবনের কঠিনতম সময়। কিন্তু আমার ঘটনাবহুল জীবনে আরও অনেক কিছুই যে বাকি। প্রত্যেকবার নতুন করে জন্মেছি আমি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পর ২০০৭ সালে একজন মা হিসেবে জন্ম। ২০১২ সালে একজন একা মা এর জন্ম, যাকে অনবরত হাজারো মিথ্যা, কুৎসা এবং রটনার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়। মিথ্যার জঞ্জালে বসে যে প্রতিনিয়ত কাঁদে, তারপর উঠে দাঁড়ায়, সামনের দিকে পা বাড়ায়।’
নিজের জীবনে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ২০২৪ সালের সঙ্গে যুক্ত করেছেন শাওন। তিনি লিখেছেন, আমার সাম্প্রতিক জন্ম ২০২৪ সালে। এ জন্মের পর আমি আগের চেয়ে পরিণত, অনেক দৃঢ়। আশপাশের মানুষের ভেতরের অমানুষ যেমন চিনেছি তেমনি দূরের লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নিজেকে ভালোবাসতে শিখেছি। আমার প্রতিটি পদক্ষেপ এখন আমার জন্য, প্রিয়জনদের জন্য, যারা এ আমিকে ভালোবাসেন তাদের জন্য। এ পদক্ষেপে অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল যেন না হয় সে চেষ্টা থাকবে।’
পোস্টের শেষাংশে নিজের পরিচয় তুলে ধরে শাওন লিখেছেন, ‘আমি মেহের আফরোজ শাওন। বেগম তহুরা আলী এবং ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলীর বড় কন্যা, মুক্তিযুদ্ধকে হৃদয়ে ধারণ করে বহু কষ্টে অর্জিত এ বাংলাদেশের একজন গর্বিত সন্তান। চমৎকার দুটি সন্তানের বন্ধুর মতো মা, হুমায়ূন আহমেদ এর কুসুম… নিজ রাজ্যের রাজকুমারী।’




