পরিচালকের কারণে জায়েদ খানের সেই সিনেমা ছাড়লেন অধরা

জায়েদ খান ও অধরা
জায়েদ খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমায় অভিনয় করার কথা ছিল অভিনেত্রী অধরা খানের। তবে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। রবিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে সরে দাঁড়ানোর কারণও জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী।
অধরা বলেছেন, ‘পরিচালকের অপেশাদার আচরণ ও যথাযথ যোগাযোগের অভাবে আমি অনেক আগেই সিনেমাটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হলেও তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসায়, আমার ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সম্মানিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করছি।’
এতদিন নীরব থাকার কারণ জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি এতদিন নীরব ছিলাম, কারণ আমার বক্তব্যের কারণে সিনেমাটির চলমান শুটিং কিংবা এর সঙ্গে যুক্ত সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক, তা চাইনি।’
তবে সিনেমাটি ঘিরে তার বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন অধরা। তার ভাষ্য, ‘ভায়োলেন্স’ এর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হলিউডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ গ্রহণ করতে পারিনি। চুক্তিগত গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা (NDA) থাকায় সেসব প্রজেক্টের বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘এ সিনেমার জন্য অন্যান্য কাজের সময়সূচি ও পেশাগত প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে না পারায় এখানে আমার কাস্টিং ডিরেক্টর ও এজেন্সির কাছ থেকেও সতর্কবার্তা পেতে হয়েছে।’
সিনেমাটির শুটিং শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে যোগাযোগের চেষ্টা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন অধরা। তিনি বলেন, ‘এই সিনেমায় আমার শুটিংয়ের মাত্র একদিন আগে আমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করাও আমার জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল।’
বাংলা সিনেমার প্রতি ভালোবাসা থেকেই ‘ভায়োলেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘এই অভিজ্ঞতা আমার জন্য একটি বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে। যথাযথ পেশাদারিত্ব, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্মানের বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে বিবেচনা না করে এই প্রজেক্টে যুক্ত হওয়াকে আমি আমার ক্যারিয়ারের একটি বড় ‘ভুল’ হিসেবেও দেখছি।’
নিজের বক্তব্যের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে অধরা বলেন, ‘আমার এই লেখার উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা বা কোনো সিনেমার ক্ষতি করা নয়; বরং আমার ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সম্মানিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও অবস্থান পরিষ্কার করা।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক সম্মান ও পেশাদারিত্ব কখনোই একতরফা হওয়া উচিত নয়। একজন শিল্পী হিসেবে নিজের সময়, শ্রম ও আত্মসম্মানের মূল্য দেওয়াটাও আমার দায়িত্ব।’
অধরা আশা প্রকাশ করেন, তার বক্তব্যকে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে না দেখে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যা হিসেবেই দেখা হবে।




