কেমোথেরাপি দিতে হচ্ছে না, অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত ইলিয়াস কাঞ্চন

ইলিয়াস কাঞ্চন
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ। সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। এই আন্দোলন শুরু করেছিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।
তিনি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে চলছে তার চিকিৎসা। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরাতে পারেননি।
এরই মধ্যে গত আগস্টে দেশে ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সে সময় তার চলাফেরায় কিছুটা অস্বাভাবিকতা দেখা যায় ও শারীরিকভাবেও কিছুটা দুর্বল ছিলেন। তবে এখন ইলিয়াস কাঞ্চন অনেকটাই ভালো আছেন। কেমোথেরাপির প্রয়োজন পড়ছে না। চলাফেরায় এসেছে স্বাভাবিকতা, এমনটাই জানাচ্ছিলেন নিরাপদ সড়ক চাই প্ল্যাটফর্মের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব লিটন এরশাদ।
আগামীর সময়ের সঙ্গে আলাপকালে লিটন এরশাদ বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চনের এখন কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে না। চিকিৎসক প্রফেসর ড্রিমিট্রিয়াসের তত্ত্বাবধানে বাসাতেই চিকিৎসা চলছে। মুখের ওষুধ খাচ্ছেন। চিকিৎসকেরা আশা প্রকাশ করে আমাদের জানিয়েছেন, ইলিয়াস কাঞ্চন এখন অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত। বলা যায়, অলৌকিকভাবে তার অনেক উন্নতি হয়েছে।’
‘তার চিন্তাভাবনা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। নিয়মিত আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন। নিরাপদ সড়ক নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা আমাদের জানাচ্ছেন। ফলে আমরা আশা করছি, তিনি শিগগির আমাদের মাঝে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন’, যোগ করেন লিটন এরশাদ।
এদিকে, জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। প্রিয় দেশ থেকে দূরে থাকলেও আমার মন পড়ে আছে আপনাদের কাছে, নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের কাছে। আমার অসুস্থতার সময়ে যারা খোঁজ নিয়েছেন, ভালোবাসা জানিয়েছেন এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।’
তিনি বলেন, ‘নিসচা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সড়ক নিরাপত্তার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে। ১৯৯৩ সালে প্রিয়তমা স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হারানোর পর আমি উপলব্ধি করি, সড়কে একটি মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, তা পুরো সমাজের ক্ষতি। সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে মানুষের জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যে নিরাপদ সড়ক চাই প্রতিষ্ঠা করি। ১৯৯৪ সাল থেকে ২২ অক্টোবরকে নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালনের মধ্য দিয়ে নিসচা নিরাপদ সড়কের দাবিকে জনপরিসরে তুলে ধরেছে। নিসচার দীর্ঘ আন্দোলন ও দাবির ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে সরকার ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণা করে।’
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে সড়ক দুর্ঘটনাকে নিয়তি হিসেবে মেনে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ঝুঁকি চিহ্নিত করা, আইন প্রয়োগের দাবি তোলা এবং নিরাপদ অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য কাজ করতে হবে। সড়কে প্রতিটি মানুষের জীবনের মূল্য রক্ষায় সরকার, পরিবহনমালিক-শ্রমিক, চালক, যাত্রী, পথচারী, গণমাধ্যম, নাগরিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’





