ক্যারিয়ারের বসন্তে কেন থেমে গিয়েছিলেন দিয়া মির্জা?

দিয়া মির্জা
বলিউডের গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে যখন কোনো অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার তরতরিয়ে ওপরের দিকে উঠতে থাকে, তখন সবাই চান আরও বেশি করে লাইমলাইটে থাকতে, আরও বেশি সিনেমায় সই করতে। কিন্তু ‘রেনা হ্যায় তেরে দিল মেঁ’ ছবির সেই চেনা মিষ্টি মেয়ে দিয়া মির্জা হেঁটেছিলেন একদম উল্টো পথে। ২০০৫ সালের দিকে যখন তার বয়স মাত্র ২৪ বছর, চারদিকে একের পর এক হিট ছবি আর তুমুল জনপ্রিয়তা— ঠিক তখনই সবাইকে চমকে দিয়ে বলিউড থেকে উধাও হয়ে যান তিনি। দীর্ঘ ২১ বছর পর, সম্প্রতি সহকর্মী সোহা আলি খানের পডকাস্ট ‘অল অ্যাবাউট হার’-এ হাজির হয়ে দিয়া ফাঁস করলেন ক্যারিয়ারের সেই সোনালী সময়ে কেন হুট করে ২ বছরের জন্য ‘বনবাসে’ গিয়েছিলেন তিনি।
মডেলিং জগত থেকে বলিউডে আসা দিয়া মির্জা জানান, গ্ল্যামার দুনিয়ার মেকি জাঁকজমক একসময় তাকে ভেতর থেকে দমবন্ধ করে দিচ্ছিল। দিয়ার ভাষায়, ‘অন্য সবার মতো আমিও গ্ল্যামার আর কমার্শিয়াল দুনিয়ার মোহে অন্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম। একজন মডেল হিসেবে আমার কাজই হয়ে দাঁড়িয়েছিল স্ক্রিনের সামনে এসে এটা-ওটা বিক্রি করা। এছাড়া সিনেমায় আমাকে যে ধরণের চরিত্রে অভিনয় করতে দেওয়া হতো, সেগুলোর সাথে আমার বাস্তব জীবনের চিন্তাভাবনা বা বুদ্ধিমত্তার কোনো মিল ছিল না। আমার মনে হতো, আমি যা বিশ্বাস করি, পর্দায় তার উল্টোটা করছি। তাহলে আমার নিজের সততার মূল্য কোথায় রইল?’
মাত্র ২৪ বছর বয়সেই বলিউডে নিজের জমি শক্ত করে ফেলেছিলেন দিয়া। মুম্বাইয়ের মতো শহরে নিজের মাথার ওপর একটা ছাদ বা ফ্ল্যাট কিনে ফেলেছিলেন, ব্যাংক ব্যালেন্সও ছিল ভরপুর। কিন্তু তবুও শান্তি পাননি এই তারকা।
দিয়া বলেছেন, ‘২০০৫ সালে আমি যখন বিরতি নিই, তখন আমার বয়স মাত্র ২৪। টাকা-পয়সার অভাব ছিল না, নিজের বাড়ি ছিল, বিল দেওয়ার টেনশন ছিল না— কিন্তু আমি কাজে কোনো আনন্দ পাচ্ছিলাম না, ভেতর থেকে খুশি হতে পারছিলাম না। তখনই আমি রিয়ালাইজ করি, এই গ্ল্যামারের ইঁদুরদৌড় থেকে আমার বের হওয়া দরকার। আমার নিজের কাছে, নিজের আত্মার কাছে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। সেই দুই বছরের বিরতিটা ছিল আমার জন্য এক ধরণের ঘরে ফেরা।’
এই স্বেচ্ছা-বিরতিই যে দিয়া মির্জাকে পরবর্তীতে একজন পরিণত মানুষ ও অভিনন্দিত শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে, তা বলাই বাহুল্য। বিরতি থেকে ফিরে এসে তিনি ‘লাগে রাহো মুন্না ভাই’, ‘শুটআউট অ্যাট লোকান্ডওয়ালা’ এবং সাম্প্রতিক সময়ে ‘সঞ্জু’ ও ‘থাপ্পড়’-এর মতো শক্তিশালী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রমাণ করেছেন পদের চেয়েও পর্দার চরিত্রের গভীরতা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ।








