সন্তানদের সাফল্যে গর্বিত জাভেদ আখতার

জাভেদ আখতার, জোয়া আখতার ও ফারহান আখতার। ছবি: কোলাজ
বলিউডের খ্যাতিমান গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার। তিনি তার স্পষ্টভাষী মতাদর্শের জন্য সবসময়ই চর্চায় থাকেন। সম্প্রতি ‘লেটস টক উইথ দেবনাজি’ সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের দুই সন্তান, ফারহান আখতার ও জোয়া আখতারের শৈশব এবং তাদের ওপর পারিবারিক শিক্ষার প্রভাব নিয়ে খোলামেলা স্মৃতিচারণ করেছেন।
সন্তানদের ওপর কোনো ধর্মীয় পরিচয় চাপিয়ে না দিয়ে কীভাবে এক মুক্তমনা ও ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশে বড় করেছেন, সেই গল্পই তুলে ধরেছেন তিনি।
জাভেদ আখতার জানান, তখন ফারহানের বয়স মাত্র আট বছর। একদিন স্কুল থেকে ব্যাগ কাঁধে দৌড়ে এসে সে বাবাকে জিজ্ঞেস করে, ‘আমরা কি মুসলিম?’
শিশুমনের সেই নিষ্পাপ অথচ গভীর প্রশ্নের উত্তরে জাভেদ আখতার তাকে বুঝিয়েছিলেন, ‘তুমি পুণে, মুম্বাই, লন্ডন কিংবা নিউ ইয়র্ক— যেখানেই জন্ম নাও না কেন, সবাই একইভাবে জন্মায়। কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা পরিবারে জন্ম নেওয়াটা নিছকই একটি কাকতালীয় ব্যাপার। তাই তুমি কোন শহরে বা কোন ধর্মে জন্মেছ সেটা বড় কথা নয়; মানুষ হিসেবে তুমি নিজে কী হয়ে উঠছ, সেটাই আসল কথা।’
তিনি মনে করেন, সাধারণত ১১-১২ বছর বয়সের মধ্যেই শিশুরা কোনো না কোনো ধর্মীয় গণ্ডিতে আটকে পড়ে। তবে তিনি ও তার পরিবার সন্তানদের কখনোই কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ে বাঁধেননি।
১৯৮৫ সালে প্রথম স্ত্রী হানি ইরানির সঙ্গে জাভেদ আখতারের বিচ্ছেদ হয়। সে সময় জোয়ার বয়স ছিল ১১ এবং ফারহানের সাড়ে ৯ বছর।
বিচ্ছেদ সত্ত্বেও সন্তানদের নীতি-নৈতিকতা, স্বাধীনতা ও দায়িত্ববোধ শেখানোর পুরো কৃতিত্ব তিনি সাবেক স্ত্রী হনিকেই দিয়েছেন। তার মতে, সন্তানদের বেড়ে ওঠার ওই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হনি ইরানিই স্বাধীনতা ও মূল্যবোধের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে শিখিয়েছেন।
বর্তমানে ফারহান আখতার ও জোয়া আখতার— দুজনেই চলচ্চিত্র জগতে স্বনামধন্য। জোয়া একাধারে সফল পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার, অন্যদিকে ফারহান সফল পরিচালক ও অভিনেতা।
সন্তানদের এই অর্জনে গর্ব প্রকাশ করে বর্ষীয়ান এই গীতিকার বলেছেন, ‘আমি তাদের জন্য অত্যন্ত গর্বিত। তবে তারা আজ যে জায়গায় পৌঁছেছে, তার পেছনে মা-বাবার কোনো অবদান বা প্রভাব নেই; পুরোটাই তাদের নিজেদের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের ফল।’






