মার্শাল আর্ট ট্রেইনার থেকে বলিউডের ‘খিলাড়ি’ অক্ষয় কুমার

অক্ষয় কুমার
মার্শাল আর্ট ট্রেইনার থেকে বলিউডের ‘খিলাড়ি’— দীর্ঘ তিন দশকের পথচলায় নিজের অনন্য শৃঙ্খলা, অনবদ্য ফিটনেস এবং বহুমুখী অভিনয়দক্ষতা দিয়ে লাখো ভক্তের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন অক্ষয় কুমার।
অ্যাকশন, কমেডি, রোমান্স কিংবা সামাজিক বার্তাভিত্তিক সিনেমা, রুপালি পর্দার প্রতিটি ঘরানাতেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অলরাউন্ডার হিসেবে। আজ, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে জীবনের ৫৯টি বসন্ত পার করে এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন এই অভিনেতা।
তবে রূপালি পর্দার এই গ্ল্যামারাস জীবনের পেছনের গল্পটা কিন্তু একেবারেই রাজকীয় ছিল না। বলিউডে সুযোগ পাওয়ার আগে জীবনের তাগিদে তিনি থাইল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
সেখানে হোটেল বয় আর ওয়েটারের কাজ করার পাশাপাশি মার্শাল আর্ট শেখেন এবং পরবর্তীতে মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন।
শুধু থাইল্যান্ডই নয়, আশির দশকে ভাগ্যান্বেষণে তিনি এসেছিলেন বাংলাদেশেও। রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের ঐতিহ্যবাহী ‘হোটেল পূর্বাণী’-তে তিনি প্রায় ছয় মাস শেফ ও ট্রেইনি হিসেবে কাজ করেছিলেন।
তখন অবশ্য ‘অক্ষয় কুমার’ নাম নয়, তাকে সবাই চিনত রাজীব হরি ওম ভাটিয়া নামে। জীবনের সেই কঠিন সময়ে শেখা নিয়মানুবর্তিতা, কঠোর পরিশ্রম আর শৃঙ্খলা আজও অক্ষয়ের দৈনিক জীবনযাত্রার মূল চাবিকাঠি।
১৯৯১ সালে ‘সৌগন্ধ’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রেখেছিলেন অক্ষয়। কিন্তু তার জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে ১৯৯২ সালের ‘খিলাড়ি’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
‘ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি’, ‘সবসে বড়া খিলাড়ি’-র মতো একের পর এক সুপারহিট অ্যাকশন সিনেমা দিয়ে নিজের গায়ে স্থায়ীভাবে লাগিয়ে নেন ‘খিলাড়ি’ ট্যাগ।
শুধু মারপিট বা অ্যাকশনেই আটকে থাকেননি অক্ষয়। ২০০০ সালে ‘হেরা ফেরি’ সিনেমার মাধ্যমে নিজের কমেডি টাইমিংয়ের যে জাদু তিনি দেখিয়েছিলেন, তা আজও সিনেমাপ্রেমীদের মুখে হাসি ফোটায়।
এরপর ‘গরম মসালা’, ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘ওয়েলকাম’-এর মতো কালজয়ী কমেডি সিনেমা উপহার দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন নিখুঁত অলরাউন্ডার হিসেবে।
ক্যারিয়ারের একপর্যায়ে সামাজিক অবক্ষয় ও সত্যি ঘটনা অবলম্বনে তৈরি সিনেমায় কাজ করে জয় করে নেন সবার মন। ‘এয়ারলিফ্ট’, ‘প্যাড ম্যান’, ‘রুস্তম’ কিংবা ‘কেসরি’-র মতো সিনেমাগুলোতে তার অনবদ্য পারফরম্যান্স তাকে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এনে দেয়। ভারত সরকার তাকে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রীতেও ভূষিত করেছে।
আজ ৫৯ বছর বয়সে এসেও তিনি একইরকম ফিট, একইরকম প্রাণবন্ত। প্রতিদিন ভোর চারটায় ঘুম থেকে ওঠা আর কঠোর ফিটনেস রুটিন মেনে চলা অক্ষয়ের কাছে বয়সটা যেন কেবলই একটা সংখ্যা।
মার্শাল আর্ট ট্রেইনার থেকে কোটি ভক্তের হৃদয়ে রাজত্ব করা ‘বলিউডের খিলাড়ি’, অক্ষয় কুমারের এই অনুপ্রেরণাদায়ক পথচলা আগামী প্রজন্মের কাছে এক বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।







