যে সিনেমা বদলে দিয়েছিল নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর ভাগ্য

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী
বলিউডে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী মানেই অভিনয়ের এক অনন্য পাঠশালা। কিন্তু এই খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছানোর পেছনের পথটা যে কতটা কঠিন ছিল, তা শুধু তিনিই জানেন। তবে বছরের পর বছর ধরে চলা সংগ্রামের পর এমন একটি সিনেমা এসেছিল, যা এক রাতেই তার জীবন বদলে দিয়েছিল।
কথা হচ্ছে অনুরাগ কাশ্যপের কালজয়ী মাস্টারপিস ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর ২’ নিয়ে। এ বছর সিনেমাটি মুক্তির ১৪ বছর পূর্ণ করল।
সম্প্রতি এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী ফাঁস করলেন ‘ফয়জল খান’ চরিত্রটির জনপ্রিয়তার পর তার জীবনে নেমে আসা সেই অবিশ্বাস্য সময়ের কথা।
সাংবাদিক যখন জানতে চান, ঠিক কোন সিনেমাটি করার পর প্রথম নিজেকে সত্যিকারের ‘স্টার’ মনে হয়েছিল? নওয়াজউদ্দিন বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বলেন, ‘অবশ্যই গ্যাংস অব ওয়াসিপুর ২’।
এরপরই সেই অবিশ্বাস্য গল্প শোনান নওয়াজ। তিনি বলেছেন, ‘ওয়াসিপুর ২ মুক্তির ঠিক পরেই আমার কাছে অন্তত ২০০টি নতুন সিনেমার অফার আসে। প্রযোজকরা আমার ঘরের টেবিলে সই করা ফাঁকা চেক রেখে যেতেন। আর বলতেন— এই নিন চিত্রনাট্য আর এই ব্ল্যাঙ্ক চেক। আপনার যত টাকা ইচ্ছা অঙ্ক বসিয়ে নিন, শুধু আমাদের ডেট দিন।’
একজন অভিনেতার কাছে যখন ইচ্ছেমতো পারিশ্রমিক পাওয়ার এমন সুবর্ণ সুযোগ, ঠিক তখনই অবিশ্বাস্য এক সিদ্ধান্ত নেন নওয়াজ। টেবিলে পড়ে থাকা ২০০টি চিত্রনাট্যের একটিতেও তিনি সই করেননি।
কারণটা ব্যাখ্যা করে অভিনেতা বলেছেন, ‘এতগুলো চিত্রনাট্যের একটাও আমার মন মতো হয়নি। তাই আমি অফারগুলো ফিরিয়ে দিই। সিদ্ধান্ত নিই ভালো কাজের জন্য অপেক্ষা করব। এমনিতেও তো কাজের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করাই ছিল আমার অভ্যাস। তাই তাড়াহুড়ো করে বাজে সিনেমায় কাজ করার চেয়ে ভেবেছিলাম দরকার হলে আরও ২-৩ বছর কাজ ছাড়া বসে থাকব।’
তবে ভাগ্যিস, বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি এই গুণী অভিনেতাকে। খুব দ্রুতই তার কাছে মনের মতো অসাধারণ সব সিনেমার অফার আসতে শুরু করে।
মনোজ বাজপেয়ী, পঙ্কজ ত্রিপাঠী, রাজকুমার রাও, জয়দীপ আহলাওয়াত ও হুমা কুরেশির মতো শক্তিশালী তারকাদের ভিড়ে ‘ফয়জল খান’ সেদিন দর্শকদের হৃদয়ে যে দাগ কেটেছিল, তা আজও হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে এক অন্যতম সেরা সৃষ্টি হিসেবে গণ্য করা হয়।




