বাসের মেঝেতে ঘুমাতেন শাহরুখ

বলিউডের ‘বাদশাহ’ শাহরুখ খান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি এখন ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল তারকা। তবে তারকা হওয়ার শুরুর দিকেও সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। এমনই একটি স্মৃতি শেয়ার করেছেন অভিনেতা ও পরিচালক তিগমাংশু ধুলিয়া।
মণি রত্নম পরিচালিত ‘দিল সে’ সিনেমায় শাহরুখ খানের সঙ্গে কাজ করেছিলেন তিগমাংশু। ওই সিনেমায় তিনি সংলাপ লেখার কাজও করেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে শাহরুখের বিনয়ী স্বভাবের প্রশংসা করেন তিনি।
তিগমাংশু জানান, ‘দিল সে’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় শাহরুখ ইতোমধ্যেই বড় তারকা হয়ে উঠেছিলেন। সিনেমাটির শুটিং হয়েছিল বিভিন্ন আউটডোর লোকেশনে। সে সময় শুটিং সেটে এখনকার মতো ভ্যানিটি ভ্যানের ব্যবস্থা ছিল না।
দুপুরের খাবারের বিরতিতে শাহরুখ দ্রুত খাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিতেন। আর ঘুমানোর জন্য বেছে নিতেন শুটিংয়ে ব্যবহৃত বাসের মেঝে। বাসের যাতায়াতের জায়গাতেই প্রায় ৩০ মিনিট ঘুমাতেন তিনি।
তিগমাংশুর ভাষ্য অনুযায়ী, বাসের ভেতরে থাকা বিভিন্ন জিনিস নিতে ক্রু সদস্যদের নিয়মিত আসা-যাওয়া করতে হতো। কখনো শাহরুখ ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়ও তাদের বাসের ভেতরে যেতে হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে কখনো বিরক্তি প্রকাশ করেননি অভিনেতা।
তিগমাংশু বলেন, শাহরুখ চাইলে তার বিশ্রামের সময় কাউকে বাসে ঢুকতে নিষেধ করতে পারতেন। কারণ তিনি তখনও সিনেমার বড় তারকা। কিন্তু এমন কোনো আচরণ তাঁর মধ্যে দেখা যায়নি। বরং সাধারণভাবেই সবার সঙ্গে মিশতেন তিনি।
শাহরুখের সঙ্গে পরবর্তীতে ‘জিরো’ সিনেমাতেও কাজ করেন তিগমাংশু। ওই সিনেমায় শাহরুখের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সেই সময়ের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরে তিগমাংশু জানান, শাহরুখের আচরণে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তার ভাষ্য, সেটে কেউ দাঁড়িয়ে খাবার খেলে শাহরুখ নিজেই চেয়ার এগিয়ে দিতেন। সবাই খেয়েছেন কি না, সেটিও একে একে জানতে চাইতেন। তিগমাংশুর মতে, শাহরুখের এই বিনয় ও ভদ্রতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
শাহরুখ খানের তারকাখ্যাতি এখন আকাশছোঁয়া হলেও সহকর্মীদের সঙ্গে তার এই সহজ-সরল আচরণের স্মৃতি মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। তিগমাংশুর এই অভিজ্ঞতাও বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকার ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক তুলে ধরেছে।




