বিসিএসে নিয়োগ
বাদ পড়া ৪৬ জনের গেজেট আগামী সোমবার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে বাদ পড়া ৪৬ জনের নিয়োগের গেজেট আগামী সোমবার প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সরকারি চাকরিতে এই নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সরকারি কলেজে শিক্ষক নিয়োগে ৪৯তম (বিশেষ) বিসিএস (শিক্ষা ক্যাডার) পরীক্ষা নিয়ে উত্তীর্ণ ৬৬৮ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
তারমধ্য থেকে ৬১১ জনকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশের পর সমালোচনা শুরু হয় যে, রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক পরিচয় দেখে ৫৭ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এনিয়ে আলোচনার মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এই বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ৬৬৮ জন। সেই হিসাবে প্রজ্ঞাপনে ৫৭ জনের নাম নেই।
‘কিন্ত প্রকৃত তথ্য হচ্ছে, বাদ পড়া ৫৭ জনের মধ্যে তিনজন সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল টেস্টে উপস্থিত হননি। তার মানে প্রথম প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা ৫৭ জন নয়, ৪৬ জন হবে।’
এই ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন সোমবার হবে জানিয়ে তিনি বলেন, চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন একবার হয় না। কয়েকবার হতে পারে। এই নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরিতে যোগদানের তারিখ আগামী ১২ অক্টোবর। সেই হিসাবে আরো ১১ দিন সময় রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, গোপালগঞ্জে বাড়ি হওয়ার কারণে কেউ কেউ নিয়োগ পাননি। আবার জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মধ্য থেকে অভিযোগ উঠেছে, তাদের পরিবারের কেউ কেউ নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বৈষম্য করা হয়নি দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।
তার ভাষ্যে, বিসিএস বা এ ধরনের পরীক্ষায় ভেরিফিকেশন একটা বাধ্যবাধকতা, মেডিকেল টেস্ট এবং সার্টিফিকেট জমা দেওয়াটাও একটা বাধ্যবাধকতা।
‘এখানে অনেকেই একটা বিতর্ক তোলার চেষ্টা করেছেন যে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে কিনা। আমি সকলকে আশ্বস্ত করতে চাই, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারো প্রতি বৈষম্য করা হবে না।’
‘জুলাইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিলো একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য। কারো রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক, বিসিএস বা এই ধরনের পরীক্ষা বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে সেই কারণে কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে না,’ বলেন তিনি।
নিয়োগ না পেয়ে আন্দোলন বা আত্মহত্যার হুমকি দেওয়া প্রার্থীর প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘যারা এই সমস্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করছে, তার মধ্যে তিনি একজন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হলের একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠনের পদ-পদবিধারী নেতা ছিলেন, সম্ভবত হল শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার সেই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি সন্দেহ করে নিয়েছেন তাকে আর চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হবে না। আমার বক্তব্য হলো, তাকে ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
পুলিশের যাচাইকরণ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারো বিরুদ্ধে যদি গুরুতর কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকে, পুলিশ ভেরিফিকেশনে সেজন্য শতকরা একজন বা হাজারে দুই-একজন বাদ পড়তে পারেন।
‘কারো বিরুদ্ধে যদি এরকম কোনো কনভিকশন থাকে, সেটা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত, আপিলে খালাস না পাওয়া পর্যন্ত (অপেক্ষা করার) সেরকম কিছু কিছু বিধান তো থাকে। না হলে পরবর্তীতে পাবলিক সার্ভিস নিয়োগগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’
তিনি বিষয়টি নিয়ে বাদপড়া প্রার্থীসহ সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।



