৪ চ্যালেঞ্জ নিয়ে খুলছে স্কুলকলেজ

শিশুদের হাম, ডেঙ্গুর চোখরাঙানি আর হাঁসফাঁস গরম– এই তিনটিই বড় চ্যালেঞ্জ। সময় পার হয়ে যাওয়ায় যোগ হয়েছে সিলেবাস শেষ করার বিষয়টিও। মোটাদাগে এই চার চ্যালেঞ্জ নিয়েই আজ রবিবার খুলছে স্কুল-কলেজ।
ঈদ আর গ্রীষ্মকালীন ছুটি ছিল গত ১৬ দিন। কোটি কোটি শিক্ষার্থীর পদচারণায় আজ থেকে আবারও মুখর হবে শিক্ষাঙ্গন। হামে মৃত্যুর পারদ যদিও নিম্নমুখী; কিন্তু হাতছানি দিয়ে ডাকছে ডেঙ্গু। গরম তো কেবল শুরু। আর গতকাল শনিবার স্কুল খোলা রাখাও হয়ে উঠছে ‘অসিলা’ ইস্যু। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও অভিভাবকরা এসব নিয়ে ভাবনায়।
২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, গত ২৪ মে থেকে ছুটি শুরু হয়ে ৪ জুন পর্যন্ত চলে। ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় মূলত ৭ জুন থেকে শ্রেণিকক্ষে শুরু হচ্ছে পুরোদমে কার্যক্রম। অন্যদিকে মাদ্রাসায় ছুটি চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে খুলবে ১৪ জুন।
শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, জুন মাসে দেশ জুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই হাঁসফাঁস গরমে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ধরে রাখা এবং তাদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়টি বড় উদ্বেগের কারণ। মফস্বল অঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের বিষয়টিও দুশ্চিন্তার বড় কারণ। সব মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা ক্রমেই চ্যালেঞ্জের মুখে। ফলে পাঠদান কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা আছে শিক্ষক-অভিভাবকদের।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন খানের কথা, ‘প্রচণ্ড গরমের কারণে স্কুলগুলোকে আপাতত অ্যাসেম্বলি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা অথবা ভেতরে করতে উৎসাহিত করছি। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ খাবার পানি রাখার পাশাপাশি যেসব এলাকায় হামের প্রকোপ বেশি, সেখানে কোনো শিক্ষার্থীর শরীরে উপসর্গ দেখা দিলে তাকে কয়েক দিন স্কুলে না পাঠিয়ে বিশ্রামে রাখতে অনুরোধ করেছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেল গঠন করেছে মাউশি ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ, টবের নিচে বা ছাদে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির ঝুঁকি আছে। মাউশির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্কুল খোলার প্রথম দিনই যেন প্রতিটি ক্যাম্পাস, শ্রেণিকক্ষ, ছাদ ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। কোনো অবস্থাতেই যেন পানি জমে না থাকে। এসব কাজ দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনের কথা জানালেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু ও হাম নিয়ে স্কুলগুলোর করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দেখতে মাঠে থাকবে বিশেষ টিম। তারা আকস্মিক পরিদর্শনে যাবেন।
শনিবারও খোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়: চলতি শিক্ষাবর্ষের অ্যাকাডেমিক ঘাটতি মেটাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবারও প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখবে। এ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে টানা ছয় দিন ক্লাস করা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করছেন অনেকে।
রাজধানীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘টানা ১৬ দিন ছুটি কাটিয়ে ক্লাসে ফিরবে শিশুরা। কিন্তু এই প্রচণ্ড গরমে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো শনিবারও সাপ্তাহিক ছুটি পাচ্ছে। অথচ প্রাথমিকের শিশুশিক্ষার্থীদের শনিবার ক্লাস করতে হবে। অনেক স্কুলেই পর্যাপ্ত ফ্যান নেই। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ না থাকলে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাছাড়া গরমে শিশুদের মধ্যে হাম বা জলবসন্তের মতো সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়ায়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি পরিবেশ ঠিক রাখতে।’
তবে শনিবারের ছুটি পুনর্বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করেন ওই শিক্ষক। যদিও মোহাম্মদপুর এলাকার একজন বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মন্তব্য করেছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ বেশি। জুনের পর জুলাই ও আগস্টে বেশ কিছু সরকারি ছুটি আছে। ফলে বছরের বাকি সময়ের সিলেবাস শেষ করা এবং যথাসময়ে মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা কঠিন।
শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, রবিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরপরিই ছুটি শুরু হবে জুলাইয়ে। ২৯ জুলাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা উপলক্ষে একদিনের ছুটি রয়েছে। এ ছাড়া ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা এবং ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এরপর সেপ্টেম্বর মাসেও শুভ জন্মাষ্টমী ও ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি রয়েছে।




