ভাষা ও কারিগরি দক্ষতায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেবে চীন

সংগৃহীত ছবি
চীনা ভাষার শিক্ষার আওতায় প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
আজ মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
এ সময় রাষ্ট্রদূত বললেন, ভাষা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে কাজের সুযোগ পেতে পারে। বাংলাদেশে কার্যরত প্রায় এক হাজার চীনা কোম্পানিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতেও এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা এবং যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ। চলতি বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
কারিগরি ও পলিটেকনিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বললেন , বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করে কারিকুলাম আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবে। শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী কোর্স ও প্রশিক্ষণ কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হবে।
চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে প্রাথমিকভাবে ৩০০টি স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুটি করে শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের মাধ্যমে ১৫০টি প্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
পাশাপাশি ৯টি ব্রডকাস্টিং সেন্টার স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাবে আধুনিক সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সরবরাহের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প চালু রয়েছে।
বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য একটি আধুনিক হল নির্মাণে সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা চীনা পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করার সিদ্ধান্ত হয়।
পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে চীনা পক্ষ। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ও চাহিদাপত্র দেবে বলে জানানো হয়েছে।



