১৪ বছর ধরে একসঙ্গে ১০ জন, সবার ফল গোল্ডেন এ প্লাস

রাজধানী ঢাকার ইস্কাটনের একটি স্কুলে ২০১২ সালে ভর্তি হয়ে শুরু হয়েছিল পথচলা। এরপর ২০১৬ সালে লটারির মাধ্যমে একসঙ্গে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হয়ে সুদৃঢ় হয় ১০ বন্ধুর এই বন্ধন। দীর্ঘ ১৪ বছরের বন্ধুত্বের ঝুলিতে এবার যুক্ত হলো দারুণ এক সাফল্য—এসএসসি পরীক্ষায় ১০ জনই একসঙ্গে অর্জন করেছে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন)।
আজ সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে দেখা যায় এমন আনন্দঘন চিত্র। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে তিন বিভাগে মোট ২ হাজার ১১৬ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ৭৩ জন, যার মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ হাজার ১১৫ শিক্ষার্থী এবং পাসের হার ৯৭.৯৭ শতাংশ।
সকাল ১০টায় ফল প্রকাশের পর বেলা ১১টার দিকে স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। একের পর এক ফলাফলের খবরে তারা মেতে ওঠে বাঁধভাঙা উল্লাসে। তাদের মধ্যেই ছিল এই ১০ বন্ধুর কয়েকজন ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো।
পরীক্ষার ফল জানার পূর্বমুহূর্তের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়ে জুম্মি হোসেন বললেন, ‘গত রাত থেকেই ভীষণ চিন্তায় ছিলাম। বন্ধুরা একটু পর পর কল দেওয়ায় ভয় আরও বাড়ছিল। তবে ফল হাতে পেয়ে দেখি প্রতিটি বিষয়ে নম্বর ৯০-এর ওপরে। এই অর্জনে আমাদের প্রচেষ্টার পাশাপাশি বাবা-মায়ের অনেক বড় ভূমিকা ছিল।’
করোনা-পরবর্তী পড়াশোনার নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেই এ সাফল্য এসেছে বলে জানায় শিক্ষার্থী সালমা হক তাহিরা। সে বলল, ‘করোনার পর পড়াশোনায় কিছুটা প্রভাব পড়েছিল, শর্ট সিলেবাসে পরীক্ষা দেওয়াটাও ছিল চাপের। তবে আমরা সবাই মিলে সেই চাপ অতিক্রম করতে পেরেছি।’
সব বন্ধু একসঙ্গে সফল হতে পারাই সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয় বলে মনে করছে সায়রা হাসান। সে বলল, ‘সবচেয়ে ভালো লাগছে কেউ কাউকে ফেলে যাইনি। একসঙ্গে স্কুল-কলেজ করেছি, কোচিংও করেছি একসঙ্গে। মেসেঞ্জার গ্রুপে পড়ালেখা নিয়ে আলোচনা করতাম, যাতে সবাই কম সময়ে সেরা প্রস্তুতি নিতে পারি। অবশেষে সবাই একসঙ্গেই হাসতে পারছি।’
সন্তানদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত অভিভাবকরাও। মৃধা মাহফুজুর রহমান নামের এক অভিভাবক বললেন, ‘আমরা একই কমিউনিটির মধ্যে আছি। স্কুলজীবন থেকেই ওদের ১০ জনের এই বন্ধুত্ব। সেখান থেকে আমাদের অভিবভাবকদের মধ্যেও বন্ধুত্ব হয়েছে। আজ সবাই একসঙ্গে দারুণ ফলাফল করেছে, কারও জন্য খারাপ লাগার সুযোগ নেই। ওরা যেন সবসময় এরকম একসঙ্গে সাফল্য ছুঁতে পারে। অভিভাবক হিসেবে আমরা সবাই অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।’






