শেকৃবিতে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ, ছাত্রদল নেতার কক্ষ ভাঙচুর

ছবি: আগামীর সময়
ক্যাম্পাসের সিনিয়রকে ‘হেই ব্রো’ বলে ডাক দেওয়ায় তর্ক গড়ায় সংঘর্ষে, পড়ে ভাঙচুর হয় হলে। রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঘটেছে এই ঘটনা।
সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ২১ ব্যাচের হোসাইন শরীফ এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ২৩ ব্যাচের মো. রাতুল হাসান রুম্মান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন, গতকাল দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় হোসাইন শরীফকে ‘হেই ব্রো, লিফটটা ধরেন’ বলে ডাক দেন রাতুল হাসান রুম্মান। সিনিয়রকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলায় ক্ষেপে যান হোসাইন, বকাবকি করেন রুম্মানকে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক বাঁধে।
এর জেরে রাতে শেরেবাংলা হলের ডাইনিংয়ের সামনে তাদের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়েে ১৭ ব্যাচের ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফ হস্তক্ষেপ করতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২১ ব্যাচের কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে জিবরাইলের পক্ষের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। পরে হলে ঢুকে জিবরাইলের কক্ষে চালানো হয় ভাঙচুর।
সীতাকুণ্ডে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ : অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া ৩ জন গ্রেপ্তার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রুম্মান বলেছেন, দুপুরে ক্লাস শেষে দৌড়ে লিফটে উঠতে যান তিনি। ক্লান্ত থাকায় কিছু না ভেবেই হোসাইনকে ‘ব্রো’ ডেকে লিফট ধরতে বলেছিলেন। হোসাইন তার পরিচয় জানতে চেয়ে লিফটে উঠতে বাধা দেন। রাতে হলের ডাইনিংয়ের সামনে আবার বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। একপর্যায়ে তাকে বকাঝকা ও মারধর করেন হোসাইন, অভিযোগ রুম্মানের। শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে হোসাইন শরীফের ভাষ্য, দুপুরের ঘটনার পর রাতে রুম্মানসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন। তারা তার পরিচয় জানতে চান এবং আঘাত করেন। নিজেকে রক্ষা করতে গেলে তার হাত লেগে রাতুলের কপাল কেটে যায় বলে দাবি হোসাইনের।
তিনি বলেছেন, ‘হঠাৎ ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফ কমপক্ষে ১৫ জনকে নিয়ে এসে আমার কলার ধরে হলের বাইরে নিয়ে যান। তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া, পুলিশে দেওয়া ও মামলা করার হুমকি দেন।’
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা জিবরাইলের কথা, ‘আমি শেরেবাংলা হলের সামনে ছিলাম। হলের ভেতর হইচই শুনে সেখানে গিয়ে দেখি, আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তার সিনিয়রের কোনো একটি বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়েছে। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ ও তার ব্যাচের অন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে হলের গেস্টরুমে বসতে চাই। সেখানে ২১ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে আমাদের সঙ্গে তর্কে ও পরে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী বলেছেন, ‘যতটুকু বুঝেছি, এটি ব্যাচভিত্তিক ঝামেলা। আমরা বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে জানার চেষ্টা করছি। আগামীকাল সবাইকে নিয়ে বসে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






