৫০০ টাকার সহায়ক বই ৮০০

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে বিনামূল্যে পাঠ্যবই পেলেও কমছে না শিক্ষার ব্যয়। বরং সহায়ক বই ও শিক্ষা সরঞ্জামের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে পড়ছেন অভিভাবকরা। শুধু বই নয়, কলম-খাতা থেকে জ্যামিতি বক্স— সব ধরনের শিক্ষা সরঞ্জামেরই বেড়েছে দাম।
গত বছর যে সহায়ক বই পাওয়া যেত ৫০০ টাকায়, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে একটি শ্রেণিতে বোর্ড বইয়ের সংখ্যা যেখানে ১২-১৩টি, সেখানে সহায়ক বই লাগে আরও ৭-৮টি। বোর্ডের বই বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও সহায়ক বইয়ের উচ্চমূল্যে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিয়াদ। সম্প্রতি তার মা গিয়েছিলেন ছেলের জন্য একটি ‘একের ভিতর সব’ গাইড বই কিনতে। তিনি জানালেন, গত বছর যে বইটির মূল্য ছিল ৭০০ টাকা, এবার সেটি কিনতে হয়েছে ৯০০ টাকায়। তার আক্ষেপ, 'এত টাকা দিয়ে বই কিনে বাচ্চাদের কীভাবে পড়াব?'
শুধু সহায়ক বা গাইড বই নয়; প্রায় সব ধরনের শিক্ষা সরঞ্জামের বেড়েছে দাম। ১২ টাকার রাবার (ইরেজার) এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। শার্পনারের (পেনসিল কাঁটার) দাম বেড়েছে প্রতিটিতে ৩ টাকা। ৪০ টাকার স্কেল এখন ৫৫, আর ৭০ টাকার জ্যামিতি বক্স কিনতে গুনতে হচ্ছে ১১০ টাকা। বাদ যায়নি কাগজ, কলম, পেনসিল কিংবা আর্ট পেপারও।
তবে জানা গেছে, এসব সরঞ্জামের দাম বাড়ার কারণ। চকবাজারের বই বিক্রেতা আবদুল হানান জানালেন, কাগজের দাম বেড়েছে, সঙ্গে বেড়েছে কালির দামও। ফলে বইয়ের উৎপাদন খরচ হয়েছে চড়া। গত বছর যে বইটির দাম ছিল ৫০০ টাকা, সেটি এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ৮০০ টাকায়।
এদিকে অফসেট পেপার ও নিউজপ্রিন্টের দাম বেড়ে যাওয়ায় বই ছাপানোর খরচ বেড়েছে দাবি আরেক বই বিক্রেতা মোহাম্মদ শিমুলের। তার ভাষ্য, ভালো মানের ছবি ও প্রিন্টের জন্য যে কাগজ ব্যবহার হয়, বেড়েছে সেগুলোর দাম। ফলে পৃষ্ঠা ও মানভেদে বাড়াতে হচ্ছে বইয়ের দাম।
২০১০ সালে শুরু করা হয়েছিল প্রথম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম। শিক্ষাকে স্বল্প খরচে সবার নাগালের মধ্যে আনাই ছিল এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য। শুরুতে অভিভাবকরা স্বস্তি পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের সহায়ক বইয়ের প্রচলন।
আগে সহায়ক বই সীমিত থাকলেও এখন বাণিজ্যিক চাহিদা ধরে রাখতে একাধিক ‘টপিকভিত্তিক’ গাইড বই প্রকাশ করছে প্রকাশনীগুলো। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরাও পরামর্শ দেন নির্দিষ্ট সহায়ক বই কেনার। ফলে বাধ্য হয়ে সেসব বই কিনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের, যা বাড়াচ্ছে অভিভাবকদের অতিরিক্ত খরচ।






