শেকৃবিতে অফিস টাইমে দেখা মেলে না কর্মকর্তাদের

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
সরকার যখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) প্রশাসনিক ভবনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অফিস চলাকালীন সময়েই একাধিক কর্মকর্তার কক্ষ ফাঁকা, কোথাও তালাবদ্ধ দরজা, আবার কোথাও সংশ্লিষ্ট কেউ উপস্থিত না থাকলেও চলছে লাইট ও ফ্যান। সরেজমিন পর্যবেক্ষণে প্রশাসনিক ভবনে এমন অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রের অভিযোগ, প্রশাসনিক ভবনের কিছু কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত অফিস সময় মেনে দায়িত্ব পালন করছেন না।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টায় অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের একাধিক কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল। কোথাও কক্ষে ফ্যান ও বৈদ্যুতিক বাতি চালু থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। একইভাবে নির্ধারিত মধ্যাহ্ন বিরতি শেষ হওয়ার পরও অনেক দপ্তর দীর্ঘ সময় ফাঁকা দেখা যায়।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, কেউ সকাল ১০টার পর অফিসে আসেন, কেউ মধ্যাহ্ন বিরতির পর বিকাল ৩টার পর দপ্তরে ফেরেন, আবার কেউ কেউ দুপুরের পর আর অফিসে ফিরেই আসেন না। বিশেষ করে ক্যাম্পাসে বসবাসকারী কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ বেশি রয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
গত রবিবার সকাল ১০টায় সরেজমিনে প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখা যায়, ১২টি কক্ষে মোট ১৮ জন কর্মকর্তা অনুপস্থিত। কয়েকটি কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল। কোথাও ফ্যান ও বৈদ্যুতিক বাতি চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কক্ষে ছিলেন না। একই চিত্র দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন, অর্থ ও হিসাব শাখা, পরিবহন পুল, পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক বিভাগ সহ প্রশাসনিক ভবনের প্রায় সব বিভাগেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি দপ্তরের পিয়ন অভিযোগ করে জানান, অনেক কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস সময় মেনে চলেন না। তাদের দাবি, কেউ ইচ্ছামতো সময় অফিসে আসেন, আবার সুবিধামতো সময় চলে যান। অনেকে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হন না। কেউ কেউ অফিসে এলেও দুপুরের পর আর কক্ষে ফেরেন না। আবার যারা মধ্যাহ্নভোজে যান, তাদের অনেকেই বিকাল ৩টার আগে অফিসে ফেরেন না।
তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই এমন চিত্র চলে আসলেও কার্যকর তদারকি না থাকায় এ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
অনুপস্থিত থাকা একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। কেউ জানান, তিনি অফিসের কাজেই বাইরে রয়েছেন। কেউ বলেন, তিনি অফিসে এসেছেন, তবে সাময়িকভাবে কক্ষে নেই। আবার কেউ জানান, তিনি সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়েছেন। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের সময় দেওয়ার কারণে অফিসের বাইরে অবস্থান করছেন বলেও জানান।
পরবর্তীতে দুপুর ২টা ১০ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিটের মধ্যে পুনরায় প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত মধ্যাহ্ন বিরতির সময় শেষ হলেও অধিকাংশ দপ্তরের অনেক কক্ষই ফাঁকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী মধ্যাহ্ন বিরতির সময় দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত হলেও বিরতি শেষে অনেক কর্মকর্তাকে নিজ নিজ কক্ষে পাওয়া যায়নি।
এ সময় মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে কেউ জানান, তিনি মধ্যাহ্নভোজে রয়েছেন। কেউ বলেন, দেরিতে মধ্যাহ্নভোজে যাওয়ায় অফিসে ফিরতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে অর্থ ও হিসাব শাখার একজন কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি অফিসেই আছেন এবং কাজে ব্যস্ত। কিন্তু সরেজমিনে তার কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মচারী জানান, ওই কর্মকর্তা তখনও মধ্যাহ্নভোজ থেকে ফেরেননি। একইভাবে অপর একজন কর্মকর্তা বিকাল ৩টার দিকে অফিসে এসে জানান, তিনি দুপুর ২টার পরে মধ্যাহ্নভোজে গিয়েছিলেন, তাই ফিরতে বিলম্ব হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলেছেন, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তারা প্রশাসনিক ভবনে অফিস সময় মেনে চলার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখে আসছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনিক তদারকি তুলনামূলক কম থাকায় অনেকেই নিজেদের সুবিধামতো অফিসে আসা-যাওয়া করেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে থাকলে এবং কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যও অবগত আছেন।’






