রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রশাসনের অর্থে আনা ফ্রিজে হল সংসদের ‘ক্রেডিটবাজি’

সংগৃহীত ছবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বেগম খালেদা জিয়া হলে চারটি নতুন ফ্রিজ দেওয়া নিয়ে কৃতিত্বের দাবি ঘিরে হল প্রশাসন ও হল সংসদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
হল প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বিশেষ অনুদান ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফ্রিজগুলো কেনা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কল্যাণে হল প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এগুলো দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, হল সংসদের দাবি, ফ্রিজের প্রয়োজনীয়তা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি হিসেবে তারা ধারাবাহিকভাবে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছে। এ বিষয়ে লিখিত আবেদন, আলোচনা ও হল সংসদের অধিবেশনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রশাসনের সহযোগিতায় ফ্রিজগুলো পাওয়া গেছে। তবে ফ্রিজ কেনার একক কৃতিত্ব তারা দাবি করছে না বলেও জানিয়েছে হল সংসদ।
আজ রবিবার বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শারমীন হামিদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হলের ডাইনিংয়ে ব্যবহারের জন্য চারটি নতুন ফ্রিজ কেনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বিশেষ অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এবং প্রশাসনিক বিধিবিধান অনুসরণ করে ফ্রিজগুলো কেনা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে হল প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই ফ্রিজগুলো কেনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কৃতিত্ব নেই।
তবে একই দিন রাকসুর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ‘হল সংসদের উদ্যোগে’ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য হলে চারটি নতুন ফ্রিজ প্রদান করা হয়েছে। পোস্টে বিষয়টিকে হল সংসদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার বাস্তবায়ন হিসেবে তুলে ধরা হয়। ফলে ফ্রিজগুলোর উদ্যোগ ও কৃতিত্ব নিয়ে হল প্রশাসন ও হল সংসদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দেয়।
এদিকে ফ্রিজ প্রদানের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে রবিবারই বিবৃতি দিয়েছে বেগম খালেদা জিয়া হল সংসদ। এতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই চারটি নতুন ফ্রিজ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হল সংসদের সাংবিধানিক দায়িত্ব উল্লেখ করে তারা জানায়, প্রশাসনের বিপক্ষে নয়, বরং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই তারা কাজ করে।
বিবৃতিতে হল সংসদ জানায়, খাদ্য সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ফ্রিজের প্রয়োজনীয়তা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার থেকেই তুলে ধরা হয়েছিল। এরপর বিষয়টি বাস্তবায়নে হল প্রশাসন ও উপাচার্যের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করা হয়। গত ১২ এপ্রিল উপাচার্য বরাবর হল প্রাধ্যক্ষের স্বাক্ষরসহ একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরে ২৭ এপ্রিল থেকে একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া হল সংসদের অধিবেশনে ফ্রিজ প্রদানের বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে হল সংসদ। তাদের ভাষ্য, হল প্রাধ্যক্ষও বিষয়টি বাস্তবায়নে আন্তরিক ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন।
হল সংসদের সহ-সভাপতি সাবরিনা মারজান জানালেন, ‘হল প্রশাসন আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। হল সংসদের প্রথম ছয় মাসে আমরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রশাসনের কাছে গেলেও সেগুলো সম্ভব নয় বলে জানানো হতো এবং বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমাদের হলে আগে মাত্র একটি ডিপ ফ্রিজ ছিল। বিষয়টি আমরা প্রভোস্ট ম্যামকে জানালে তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন।’
তিনি বলেছেন, ‘এপ্রিল মাসে আমরা প্রথম ফ্রিজের জন্য আবেদন করি। পরবর্তীতে জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত চতুর্থ অধিবেশনেও ফ্রিজের জন্য আবেদন জানাই। তবে আমরা কখনোই এর একক কৃতিত্ব দাবি করিনি। বরং প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা ফ্রিজ পেয়েছি—সেটিও আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি।’
মারজান আরও জানালেন, ‘হল সংসদের কাজ হলো শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সমস্যার কথা হল প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা। এসব দাবি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব প্রশাসনের।’
তবে হল সংসদের এই বক্তব্যের সঙ্গে প্রশাসনের বক্তব্যে রয়েছে ভিন্নতা। এ বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শারমীন হামিদ বললেন, ‘হল সংসদের প্রতিনিধিরা আমাকে ফ্রিজের বিষয়ে জানিয়েছিলেন। তখন আমাদের কাছে এ খাতে কোনো ফান্ড ছিল না। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় চারটি ফ্রিজ আনা হয়েছে। এর জন্য হলের নিজস্ব বাজেটের কোনো টাকা খরচ করা হয়নি।’
তিনি আরও জানালেন, ‘মূল বিষয় হলো, শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফ্রিজগুলো কিনেছে। সেখানে কৃতিত্ব নিয়ে কেন টানাটানি হবে?’





