শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা: শিক্ষামন্ত্রী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন
শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যুগোপযোগী মানবসম্পদে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ তৈরি করা। শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের যোগসূত্র তৈরি করতে হবে।’
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বললেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পর তারা যে স্বাধীনতা পেয়েছে, সেটিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ভবিষ্যতে কী করতে চান এবং কীভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবেন, এখন থেকেই সে বিষয়ে চিন্তা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকের বিশ্বে শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠ আত্মস্থ করাই যথেষ্ট নয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি, ভাষা, উদ্ভাবন ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে।’
মন্ত্রী জানালেন, বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানোটেকনোলজি, রোবটিক্সসহ নতুন প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
চীনের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সম্পর্ক রয়েছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কোন বিষয়ে দক্ষ হবে, কোথায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং কীভাবে উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত হবে— সেই বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়।’
‘আমাদের শিক্ষার্থীরা মেধায় কোনো অংশে কম নয়। এই মেধাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ শুধু নিজের উন্নয়নই করবে না, বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে’— যোগ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের বিদেশি ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বললেন, ‘ম্যান্ডারিন, কোরিয়ান ও জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। মানবসম্পদকে দেশের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ভাষা, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার প্রয়োজন।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনডোর গেমস ও নারী-পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক জিমনেশিয়ামের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। খেলাধুলা, মেধা, মনন ও সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাক্রমকে যুগোপযোগী করার বিষয়ে কাজ চলছে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত সুবিধা, শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার সুবিধা, কারিগরি শিক্ষা ও অন্যান্য আধুনিক শিক্ষা উপকরণকে এর সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।



