নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : ইউজিসি সদস্য ড. মামুন

অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন
নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন।
মঙ্গলবার ইউজিসি ও ইউএন উইমেন আয়োজিত ‘হোল অব স্কুল অ্যাপ্রোচ’ বিষয়ে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
অধ্যাপক ড. মামুন বলেছেন, নারীর নিরাপত্তার পাশাপাশি অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায়ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের নারীপ্রধানদের সামাজিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও নারীর শিক্ষা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক মামুন বলেন, নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নেতৃত্ব ও সমাজে পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কঠিন। তাই নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু কমিটি বা নীতিমালা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
যৌন হয়রানি ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা সহজ, নিরাপদ, গোপনীয় ও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগের পর ভুক্তভোগীর প্রয়োজনীয় সহায়তা, জবাবদিহি ও তদারকির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের ফলে নারীদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ, সচেতনতা এবং কার্যকর ও গোপনীয় অভিযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নারীর নেতৃত্ব বিকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, নারীর অংশগ্রহণকে শুধু কোটা বা প্রতিনিধিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁদের নেতৃত্বে উঠে আসার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক মামুন বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে শুধু ইউজিসি বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতে হবে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা একাডেমিক উৎকর্ষেরও অংশ।
উল্লেখ্য, কর্মক্ষেত্র, জনপরিসর ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক হয়েছে। এর আওতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘হোল অব স্কুল অ্যাপ্রোচ’-এর আওতায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে যৌন হয়রানি ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মামুন প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ২৮ জন ট্রেইনিং অব ট্রেইনার্সকে সনদ দেন। এ সময় পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেলের সদস্য, ইউজিসি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



