বিপ্লব ও সংহতি দিবস: ঢাবিতে ছাত্রদলের আলোকচিত্র প্রদর্শনী

ছবি: আগামীর সময়
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দুদিনব্যাপী (৭ ও ৮ নভেম্বর) আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এটি সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও সংহতির দিন। এ দিনটি না ঘটলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকে থাকত কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকে যেত। দিনটিকে জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হিসেবে স্মরণ করা উচিত।
তিনি বলেছেন, ২০২৬ সালে এসে ২০০৬ সালের পর এবারই প্রথম এতটা মুক্ত পরিবেশে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দীর্ঘ ২০ বছর রাষ্ট্রীয় বা দলীয়ভাবে এ ধরনের অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ হয়নি। আজকের দিনটি তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেছেন, ৭ নভেম্বর শুধু একটি তারিখ নয়, এটি একটি চেতনা ও প্রেরণার নাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়াইয়ের যে ঐতিহ্য, সাত নভেম্বরের চেতনার সঙ্গে তার মিল রয়েছে।
সোহেল বলেন, অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে মানুষ স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধারা এমন একটি দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে অন্যায়-অত্যাচার থাকবে না, মানুষের কথা বলার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর দেশের মানুষকে দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র্য ও নানা সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তিনি বলেছেন, পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠীর হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করা হলেও পরবর্তী সময়ে দেশকে আরেকটি দেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার চেষ্টা হয়েছে। শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়া একটি দেশের নিজস্ব শক্তি ও মেরুদণ্ড থাকতে হবে; অন্যকোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা উচিত নয়।
৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের নিজস্ব শক্তি প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ওই দিনের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান সামনে চলে আসেন। তার সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষি, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নানা পরিবর্তন এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ছাত্রদলের ঢাবি সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।



