‘গান গাওয়ার’ কারণেই কি অব্যাহতি পেলেন ঢাবি শিক্ষক?

অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিব। ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে তার গান গাওয়া কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
গতকাল সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, বাংলা বিভাগের একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তাকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সিন্ডিকেট বৈঠক সূত্র বলছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
অধ্যাপক তাশরিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। পরে বিভাগের একাডেমিক কাউন্সিলে বিষয়টি উত্থাপিত হলে তা সিন্ডিকেটে পাঠানো হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সরব ছিলেন অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব। তিনি শাহ আব্দুল করিম, ফারুক মাহফুজ আনাম (জেমস), ফজলুর রহমান বাবুসহ বিভিন্ন শিল্পীর জনপ্রিয় গান গেয়ে ভিডিও প্রকাশ করতেন। এসব ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ তার এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলেও, কেউ কেউ একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের এমন প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তে শুধু গান গাওয়ার বিষয়টিই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন আলোচনা ও গুঞ্জনের মধ্যেও প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
এদিকে অধ্যাপক তাশরিককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
কী কারণে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে জানতে অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবকে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে টেক্সট করলেও তার উত্তর পাওয়া যায়নি।





