অপ্রতিমের জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাধারণ শোক’

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। ফাইল ছবি
হত্যাকাণ্ডের শিকার ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের জন্য সাধারণ শোক ঘোষণা করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে। আজ রবিবার এ শোক পালন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে আজকের পূর্বনির্ধারিত ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মজিবুর রহমান মজুমদারের সই করা নোটিসে এ তথ্য জানানো হয়।
নোটিসে বলা হয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত এবং স্তব্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় ওই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে।
এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।
সাধারণ শোকের বিষয়ে নোটিসে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ স্থগিত থাকবে।
কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম শুক্রবার বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল। শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি সানন্দা এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর অপ্রতিম পরিবারের সঙ্গে দুপুরের খাবার খায়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে আইফোন দিয়ে ছবি তুলতে বাইরে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি মন্তব্য করেন, ‘সম্ভবত আইফোনটিই তার মৃত্যুর কারণ হয়েছে।’
এই শিশু হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটকরা হলো— তুহিন, আনাস ও ফাহিম।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানালেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক তিনজনসহ মোট চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
এদিকে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অপ্রতিমের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেছেন, ‘আমার একটাই ছেলে; ও কুমিল্লার আবহাওয়া, কুমিল্লার আকাশের নিচে সকলের ভালোবাসা ও স্নেহে বড় হয়েছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে বেহেশতবাসী করেন।’







