Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
সুনীল নিজেই ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি’
শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • চট্টগ্রাম
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • চট্টগ্রাম
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় ক্যাম্পাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কোচিং সেন্টার নাকি দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়?

আমজাদ হোসেন হৃদয়
আমজাদ হোসেন হৃদয়
agamir somoy
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ১৪:৪৬
কোচিং সেন্টার নাকি দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়?

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

‘আমি তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টার বলি।’ একটি পডকাস্টে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের এই মন্তব্য মুহূর্তেই দেশের শিক্ষা অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বুদ্ধিজীবী, গবেষক ও রাজনৈতিক অঙ্গন সবখানেই শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ বলছেন, এটি দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম অসম্মান। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও শিক্ষার মান নিয়ে দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে সামনে এনেছেন প্রতিমন্ত্রী।

বিতর্কের সূত্রপাত

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘আমি তো বলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং সেন্টার। এটা আসলে কোচিং ইউনিভার্সিটি।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় মূলত ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে কাজ করছে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অবস্থানে নেই। তাঁর মতে, গবেষণার ক্ষেত্রে কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে।

এই বক্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য, গবেষণা ও জাতীয় জীবনে অবদানের প্রশ্ন তুলে অনেকেই প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অবমাননাকর’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, দেশের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে দায়িত্বশীল সরকারি পদে থাকা একজন ব্যক্তির এমন মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত নিজের বক্তব্য প্রত্যাহারও করে নিয়েছেন তিনি।

১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রধান নির্মাতা।

ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধ্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, আমলা, বিচারপতি, অর্থনীতিবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও কূটনীতিকের শিক্ষাজীবনের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণেই অনেকেই একে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক হৃদস্পন্দন বলে মনে করেন।

বিতর্কের মূল অংশ ছিল গবেষণা

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে শিক্ষক, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গবেষণার মান নিয়ে সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা না জেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাশূন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর। গবেষণা, প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ের সূচকগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নানা সীমাবদ্ধতা ও অর্থসংকটের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো দেশের শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালে স্কোপাস ইনডেক্সড জার্নালে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক ও গবেষকরা ১ হাজার ৭৮৯টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন, যা বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা ছিল ৮০৪টি এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭৮টি।

আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়েও প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে। ২০২৬ সালের কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের ৫৮৪তম স্থান অর্জন করে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ধরে রাখে। একই সঙ্গে কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংয়ে এশিয়ার মধ্যে ১৩২তম স্থান লাভ করে বাংলাদেশে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংয়েও বিশ্ববিদ্যালয়টি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০০ ধাপ এগিয়ে ৮০১-১০০০-এর মধ্যে অবস্থান নিশ্চিত করেছে। গবেষণা, সাইটেশন, আন্তর্জাতিকীকরণ ও একাডেমিক সুনামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উন্নতি অব্যাহত রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে বিশেষ কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু গবেষণাপত্রের সংখ্যা বা ফলাফল নয়, সেই ফলাফল অর্জনের পেছনে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং গবেষণা-সহায়ক পরিবেশও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা করলে বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেখানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বছরে প্রায় ১২ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় ১৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর ৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় ৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা এবং ভারতের আইআইটি মাদ্রাজ প্রায় ১ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা গবেষণা খাতে ব্যয় করে, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বরাদ্দ মাত্র ২১ কোটি টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় শত শত গুণ কম অর্থায়নে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয় দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহৎ এই বিশ্ববিদ্যালয়কে।

টাইমস হায়ার এডুকেশনের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রিসার্চ এনভায়রনমেন্ট’ স্কোর মাত্র ১৩.৩ হলেও ‘রিসার্চ কোয়ালিটি’ স্কোর ৭৬.৫। অর্থাৎ গবেষণা তহবিল, অবকাঠামো ও গবেষণা-সহায়ক পরিবেশের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে থাকলেও গবেষণার মানের ক্ষেত্রে সেই ব্যবধান তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দেশের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আর্থিক সংকট নিয়ে যতটা আলোচনা হওয়া উচিত, বাস্তবে তার চেয়ে বেশি আলোচনায় আসে র‍্যাংকিং কিংবা রাজনৈতিক বিতর্ক। তাঁদের প্রশ্ন, যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও গবেষণা অবকাঠামোই পায় না, তার কাছ থেকে হার্ভার্ড বা অক্সফোর্ডের মানের গবেষণা প্রত্যাশা কতটা বাস্তবসম্মত? তাঁদের মতে, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের পূর্বশর্তই হলো গবেষণায় আরও বেশি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ।

শিক্ষকরা বলছেন, সীমিত গবেষণা তহবিল, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রবেশাধিকার সংকট, বিদেশি কনফারেন্সে অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা এবং আধুনিক ল্যাব সুবিধার ঘাটতি সত্ত্বেও যে পরিমাণ গবেষণা হচ্ছে, সেটিই বরং উল্লেখযোগ্য অর্জন। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও গবেষণা বিনিয়োগ বিবেচনায় নিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান প্রত্যাশার চেয়েও ভালো।

ঢাবির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কড়া প্রতিক্রিয়া

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে মুহূর্তেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান-সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ব্যাপকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান। অনেকেই প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলি কোচিং সেন্টার, এখানেই থামলে আমি অতটা আঁতকে উঠতাম না। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিম্নমুখী হওয়ার বিষয়টি আমিও বলে আসছি। কিন্তু নর্থ সাউথ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় যে গবেষণা করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার কানাকড়িও করে না, এই বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল।’

‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা এখনো যেকোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক ওপরে।’ যোগ করেন তিনি।

তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু দেশের জন্ম, শিক্ষা, রাজনীতি ও রাষ্ট্র নির্মাণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল আজিম এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক বাজেট ঘাটতি ৮০ কোটি টাকার বেশি। দেশের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক দুরবস্থা আড়াল করে যে বা যারাই র‍্যাংকিং, গবেষণার সংখ্যা, মান ইত্যাদি নিয়ে উচ্চমার্গীয় কথাবার্তা বলবে, বুঝে নেবেন সে হয় সঠিক তথ্য না জেনে মূর্খতা প্রকাশ করছে অথবা জেনে ভণ্ডামি করছে। এত ঘাটতির পরেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে বিভিন্ন বছরে ৬০০-৮০০-এর মধ্যে থাকে এটাই বেশি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০০০ বিশ্ববিদ্যালয়/সমমানের প্রতিষ্ঠান আছে। এর অর্থ হলো, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৫০০-এর বেশি স্নাতক ডিগ্রি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়/সমপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের র‍্যাংকিং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচে। এর মধ্যে আবার দেশের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চিন্তাভাবনা/কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে উনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় না, কোনো এক কোচিং সেন্টারের ফার্মগেট শাখার ম্যানেজারের দায়িত্বে আছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক শাকির আহমেদও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমালোচনা করলেই জাতে ওঠা যায়, আলোচনায় থাকা যায়, এমন একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, গবেষণা, র‍্যাংকিং কিংবা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ক্রান্তিলগ্নে বারবার নেতৃত্ব দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হলি আর্টিজানের মতো জঙ্গি হামলা করে না, বরং মুক্তিযুদ্ধ করে রাষ্ট্র গঠন করে।’

ডাকসু ও সাদা দলের প্রতিবাদ

বক্তব্য প্রকাশের পর বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, ডাকসু নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল বিবৃতিতে ববি হাজ্জাজের বক্তব্যকে ‘চরম অবমাননাকর’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করে। তাঁদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও প্রাক্তনদের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

ডাকসু বলছে, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তা দায়িত্বজ্ঞানহীন, বাস্তবতাবিবর্জিত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের প্রতি চরম অসম্মানজনক। একটি দায়িত্বশীল সাংবিধানিক পদে থেকে এ ধরনের সাধারণীকরণ ও অবমাননাকর বক্তব্য শুধু অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, বরং দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে হেয় প্রতিপন্ন করার শামিল।

শেষ পর্যন্ত বক্তব্য প্রত্যাহার

ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, তাঁর মন্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি নিজের শ্রদ্ধা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমার আংশিক বক্তব্যটি যেহেতু কিছুটা ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি করেছে, অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়েছেন, আমার অনেক প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্ক্ষী মর্মাহত হয়েছেন, সে জন্য আমার এই বক্তব্য আমি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং আশা করি এরপর এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক ও ভুল-বোঝাবুঝি থাকবে না।’

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, সমালোচনাও হতে পারে। কিন্তু গবেষণা বাজেটে বৈশ্বিক বৈষম্য, শতবর্ষের ঐতিহ্য, রাষ্ট্রগঠনে অবদান এবং বর্তমান গবেষণা বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে একটি বিষয় স্পষ্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু তাকে শুধুমাত্র ‘কোচিং সেন্টার’ বলে সংজ্ঞায়িত করা বাস্তবতাকে অত্যন্ত সরলীকৃত করে ফেলে।

শিক্ষাবিদ ও উচ্চশিক্ষা গবেষক ড. আকরাম হোসেন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হতে পারে, বরং হওয়া উচিত। কিন্তু একটি শতবর্ষী বিশ্ববিদ্যালয়কে “কোচিং সেন্টার” বলে আখ্যায়িত করা বাস্তবতাকে সরলীকরণ করা। গবেষণার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে গবেষণা খাতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত সংকট এবং শিক্ষকদের কর্মপরিবেশের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। সমালোচনা তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা তথ্যভিত্তিক এবং সমাধানমুখী হয়।’

অন্যদিকে বিশ্লেষক আহমদ হোসেন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিখুঁত নয়, গবেষণা ও একাডেমিক মানোন্নয়নে এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। তবে দেশের ইতিহাস, রাষ্ট্র গঠন, নেতৃত্ব তৈরি এবং জ্ঞানচর্চায় প্রতিষ্ঠানটির অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বলতা তুলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু এমন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়, যাতে পুরো প্রতিষ্ঠান এবং এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী আগামীর সময়কে জানান, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে পরবর্তীতে তিনি নিজেই বক্তব্যটি প্রত্যাহার করে নিয়ে জাতির কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। ফলে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করার প্রয়োজন দেখছেন না তিনি।

তাঁর ভাষ্য, ‘সীমিত সামর্থ্য ও সম্পদের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত, সরকারি সহযোগিতা এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণায় তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।’

‘বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গবেষণা বাজেট এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ দুই ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের মেধা ও যোগ্যতায় কোনো ঘাটতি নেই।’ যোগ করেন তিনি।

উপ-উপাচার্যের ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন। পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল, উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন, সীমিত বাজেটের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে গবেষণায় আরও বেশি বিনিয়োগ ও সহায়তা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের কাতারে আরও ভালো অবস্থান অর্জন করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    শেয়ার করুন:
    ব্রাশফায়ারে ঝাঁঝরা রাষ্ট্রপতি, ২০০ গজ দূরে আমি

    ব্রাশফায়ারে ঝাঁঝরা রাষ্ট্রপতি, ২০০ গজ দূরে আমি

    ৩০ মে ২০২৬, ০৭:৪৯

    জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

    জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

    ৩০ মে ২০২৬, ০১:৪২

    ৪০ গরু কোরবানি দিয়ে অস্বচ্ছল নেতাকর্মীদের দিলেন মীর হেলাল

    ৪০ গরু কোরবানি দিয়ে অস্বচ্ছল নেতাকর্মীদের দিলেন মীর হেলাল

    ২৯ মে ২০২৬, ২২:৪৭

    চট্টগ্রামে আসার আগে জিয়া কেন ঢাকায় ডেকেছিলেন দুই বিএনপি নেতাকে?

    চট্টগ্রামে আসার আগে জিয়া কেন ঢাকায় ডেকেছিলেন দুই বিএনপি নেতাকে?

    ৩০ মে ২০২৬, ০৭:৪৪

    ঢাকা সিটির ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ঢাকা সিটির ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ২৯ মে ২০২৬, ২২:৫১

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনে আপত্তি কেন, নেপথ্যে কী?

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনে আপত্তি কেন, নেপথ্যে কী?

    ২৯ মে ২০২৬, ২৩:০৩

    মেসি জানে কোন পজিশন থাকতে হবে

    মেসি জানে কোন পজিশন থাকতে হবে

    ৩০ মে ২০২৬, ০০:২৩

    একক চীনা বাজারে নির্ভরতা, ডুবছে চামড়া খাত

    একক চীনা বাজারে নির্ভরতা, ডুবছে চামড়া খাত

    ২৯ মে ২০২৬, ২০:৩৯

    নতুন প্রজন্মের তরুণীরাই পথ দেখাচ্ছে : ড. ইউনূস

    নতুন প্রজন্মের তরুণীরাই পথ দেখাচ্ছে : ড. ইউনূস

    ২৯ মে ২০২৬, ২৩:২৮

    সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে দেবে না ইরান

    সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে দেবে না ইরান

    ৩০ মে ২০২৬, ০১:৫২

    ক্রেতার স্বস্তি কৃষকের দীর্ঘশ্বাস

    ক্রেতার স্বস্তি কৃষকের দীর্ঘশ্বাস

    ৩০ মে ২০২৬, ০৮:৩৫

    সাংস্কৃতিক স্বাধীনতায় হুমকি হিসেবে দেখছে ঢাবি চলচ্চিত্র সংসদ

    সাংস্কৃতিক স্বাধীনতায় হুমকি হিসেবে দেখছে ঢাবি চলচ্চিত্র সংসদ

    ৩০ মে ২০২৬, ০০:০৭

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি নিয়ে চাপে ভারত

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি নিয়ে চাপে ভারত

    ৩০ মে ২০২৬, ০৩:৫৫

    সুনীল নিজেই ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি’

    সুনীল নিজেই ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি’

    ২৬ মে ২০২৬, ০৩:৫৫

    গুপ্ত শব্দ প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ : ছাত্রশিবির সভাপতি

    গুপ্ত শব্দ প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ : ছাত্রশিবির সভাপতি

    ৩০ মে ২০২৬, ০০:২৬

    advertiseadvertise