রাফিয়ার উদ্যোগে ঢাবিতে অনলাইন শিক্ষক মূল্যায়ন, অনুমোদন নেই প্রশাসনের

ছবি কোলাজ
ব্যক্তি উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করেছেন ডাকসু সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া। তবে এই ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদিত বা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত নয়। ফলে এতে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলকও নয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাকসু ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়েব অ্যাপটির উদ্বোধন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। এ সময় ডাকসুর অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
duevaluation.com নামের ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন। মূল্যায়নকারীর পরিচয় গোপন রাখা হলেও শিক্ষকদের সামগ্রিক মূল্যায়নের ফলাফল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
২০২২ সাল থেকে উদ্যোগটি নিয়ে আলোচনা থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি আলোর মুখ দেখেনি। তাই ব্যক্তি উদ্যোগেই শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করলেন ডাকসু সদস্য। এ ব্যবস্থায় ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ই-মেইল ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে হবে। ই-মেইলে পাঠানো কোড দিয়ে সিস্টেমে প্রবেশের পর একজন শিক্ষার্থী শুধু নিজের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন।
ডাকসু জানিয়েছে, মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বেনামি রাখা হয়েছে। ফলে কোনো শিক্ষার্থী কোন শিক্ষককে কী মূল্যায়ন করেছেন, তা প্রকাশ করা হবে না। তবে একজন শিক্ষকের সামগ্রিক মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ্যে দেখা যাবে।
এ বিষয়ে রাফিয়া বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে এর আগে বিভিন্ন নীতিমালা ও খসড়া তৈরি হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রশাসনের উদ্যোগে এ ব্যবস্থা চালু হলে সেটিই সবচেয়ে কার্যকর হতো। কিন্তু প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি আটকে থাকায় তিনি নিজ উদ্যোগে অনলাইন মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, প্রশাসনের বাইরে থেকে উদ্যোগটি নেওয়ায় এটিকে বাধ্যতামূলক করার সুযোগ নেই। ফলে এর কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর। তবে শিক্ষকদের মূল্যায়নের একটি প্রকাশ্য তথ্যভান্ডার তৈরির মাধ্যমে এ উদ্যোগ শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
ডাকসুর নেতৃবৃন্দের আশা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই মূল্যায়ন ব্যবস্থা কার্যকর হয়ে উঠবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ থেকে প্রয়োজনীয় ধারণা ও তথ্য নিতে পারবে।
সবশেষ ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামালের মেয়াদের সময় শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি বাস্তবায়ন নিয়ে জোর আলোচনা হয়েছিল। এর পর জুলাই আন্দোলনে ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ ও পুলিশি হামলাসহ নানা কর্মকাণ্ডের কারণে সমালোচিত ও বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। আন্দোলনের পর দায়িত্ব পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানও বিষয়টি বাস্তবায়নের তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম এই উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করবেন কিনা এ বিষয়ে কোনো আলোচনা এখনো শোনা যায়নি।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর মেয়াদ শেষ হবে ডাকসুর।



