জুলাইয়ে হামলায় অভিযুক্ত সাবেক রেজিস্ট্রারকে সংবর্ধনা, জাবি ছাত্রশক্তির নিন্দা

অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবু হাসানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ছবি: আগামীর সময়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক রেজিস্ট্রার আবু হাসানকে সংবর্ধনা দেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাবি শাখা।
একই সঙ্গে জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রলীগের হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পুনর্তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল রবিবার জাবি শাখা ছাত্রশক্তির দপ্তর সম্পাদক কাজী মেহরাব তুর্যের সই করা এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবু হাসানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই প্রশাসনের হল খালি করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে হ্যান্ডমাইক হাতে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেখানে সমবেত হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তার পেনশন সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এমন একজন বিতর্কিত ও অভিযুক্ত সাবেক কর্মকর্তাকে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়াকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
বিশেষ করে উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম নিজে উপস্থিত থেকে সংবর্ধনা দেওয়ায় প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি তাদের।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় উপাচার্যকে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো শিক্ষকদের সামনের সারিতে দেখা গেলেও তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকেই এখন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত হয়নি। প্রাথমিকভাবে ৯ জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং ১৯ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তে কমিটি গঠন করা হলেও পরবর্তী সময়ে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযুক্ত কয়েকজন শিক্ষকের ক্ষেত্রে কেবল বেতন হ্রাসের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় যথাযথ বিচার নিশ্চিত করে না বলে মনে করে সংগঠনটি।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ থাকার পরও আপিলের মাধ্যমে অভিযুক্ত ছাত্রলীগের হামলাকারীদের শাস্তি কমিয়ে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ছাত্রশক্তি। এ ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের তদবিরের অভিযোগও সামনে এসেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্তদের অনেকেই পুনরায় ক্যাম্পাসে চলাফেরা ও একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কিছু শিক্ষক পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। শিক্ষক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টার অভিযোগও তুলে ধরে সংগঠনটি। এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা ছাত্রলীগের হামলাকারীদের পুনর্বাসনকেন্দ্র হতে পারে না। সংবর্ধনা কিংবা আপিলের মাধ্যমে শাস্তি কমিয়ে দায়মুক্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে সংগঠনটি।
এসব ঘটনার সুষ্ঠু পুনর্তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।




