‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ শিক্ষকদের বিচারে পুনঃতদন্তের দাবি জাবি ছাত্রদলের

উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিচ্ছেন জাবি ছাত্রদল শাখা
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের মদদদাতা এবং তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার দোসর শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে বিচারে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
আজ রবিবার শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর এবং সদস্যসচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীক যৌথ স্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম বরাবর প্রদান করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামছুল আলম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সোহেল রানা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয়, পতিত স্বৈরাচারী শাসনের সূচনা থেকেই ছাত্রদল দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলন করে এসেছে। সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর যে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছিল, তার পেছনে কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সরাসরি ভূমিকা ছিল। অনেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ হামলায় উসকানি ও সহায়তার পাশাপাশি ফ্যাসিবাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দেওয়া স্মারকপত্রে বলা হয়, হামলায় জড়িত এবং মদদদাতা হিসেবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত পুনঃতদন্ত চালু করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হামলার নির্দেশদাতা বা ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা যেন কোনো অবস্থাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারণী ফোরামে অংশ নিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে ফ্যাসিবাদের আশ্রয়দাতারা এখনো বহাল রয়েছে বলে দাবি করে ছাত্রদল। নিরাপত্তার স্বার্থে এসব দপ্তর থেকে তাদের অবিলম্বে অপসারণ করে নতুন করে দপ্তরগুলো পুনর্গঠনের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
ছাত্রদল নেতারা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, ‘বিগত সময়ে এক প্রহসনের বিচার হয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো বিভিন্ন দপ্তরে বহাল তবিয়তে আছে। তাদের অপরাধের বিচার ও প্রশাসন থেকে অপসারনের দাবিও করেন বাবর।’



