একদিন সমাজের টেকসই উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে ইউএপি

কে এম মোজিবুল হক, চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, ইউএপি
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান এবং ইউএপি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মোজিবুল হক। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষা, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও করপোরেট খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়টি ঘিরে তার কর্মপরিকল্পনা, লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ ভাবনাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন আগামীর সময়ের সঙ্গে।
ইউএপি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য কী ছিল?
কে এম মোজিবুল হক: ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) প্রতিষ্ঠার পেছনে যে মূল দর্শন কাজ করেছে, তা ছিল দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুণগত পরিবর্তন আনা। ১৯৯৬ সালে যখন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতটি ছিল বিকাশের প্রাথমিক স্তরে এবং সেই সময়েই আমরা প্রতিষ্ঠাতারা উপলব্ধি করেছিলাম যে, শুধু প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
তাই একটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের অধীনে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যেখানে শিক্ষা হবে মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মূল্যবোধনির্ভর। আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা, যারা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং জ্ঞান সৃষ্টিকারী, উদ্ভাবক এবং সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত হবে।
বিশেষভাবে বলা যায়, ইউএপি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল- দেশের তরুণদের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা তাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলবে।
চেয়ারম্যান হিসেবে আপনার ভিশন কী?
কে এম মোজিবুল হক: একজন চেয়ারম্যান হিসেবে আমার ভিশন হলো ইউএপিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সেন্টার ফর এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবন সমানভাবে বিকশিত হবে।
ইউএপিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
কে এম মোজিবুল হক: ইউএপিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।
প্রথমত, আমাদের অ্যাকাডেমিক কারিকুলামকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে এবং আউটকাম বেসড এডুকেশন (ওবিই) পদ্ধতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং ডুয়াল ডিগ্রি প্রোগ্রামের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে।
তৃতীয়ত, আমরা আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছি, যেমন কিউএস এশিয়া র্যাংকিং ও সিমাগো র্যাংকিং, যা আমাদের মান যাচাই এবং উন্নয়নে সহায়তা করে। চতুর্থত, গবেষণার মান উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে— স্কোপাস ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশনা বৃদ্ধি, গবেষণা অনুদান প্রদান এবং বিশেষায়িত গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন, আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালসের মতো বৈশ্বিক ইভেন্ট সফলভাবে আয়োজন এবং ইউএমসেইলসের মতো আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের উপস্থিতি জোরদার করেছি।



