চোখজুড়ানো সৌন্দর্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: আগামীর সময়
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর খুলনা। আর এই শহরের বুকেই গড়ে উঠেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চশিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি যেমন জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র, তেমনি প্রকৃতি ও নান্দনিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। সবুজে ঘেরা পথ, জলাশয়, বৃক্ষরাজি, দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা আর শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে প্রতিদিনই মুখর থাকে পুরো ক্যাম্পাস। কোথাও সুন্দরবনের আবহ, কোথাও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, আবার কোথাও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার অনন্য প্রকাশ। সব মিলিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় যেন একটি জীবন্ত ক্যানভাস। ফটোগ্যালারিতে দেখা যাচ্ছে সেই রঙিন ক্যাম্পাসের কিছু দৃশ্য।
শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ
বাঙালির জাতীয় ইতিহাস ও জুলাই আন্দোলনের চেতনার এক অনন্য মিলনস্থল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকটির প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল ‘বিজয় তোরণ’। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নির্মাণাধীন এই তোরণের নাম ‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ রাখেন শিক্ষার্থীরা। লাল রঙে দেয়ালে নামটিও লিখে রাখেন তাঁরা। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার তোরণটির উদ্বোধন করেন।
গোলপাতার ক্যাফেটেরিয়া
সুন্দরবনের অন্যতম বনজ সম্পদ গোলপাতা দিয়ে তৈরি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া। গোলপাতার ছাউনি ও দৃষ্টিনন্দন কাঠামোর এই ক্যাফেটেরিয়াটি একাডেমিক ভবন-২-এর পাশে অবস্থিত। দেশে গোলপাতা দিয়ে নির্মিত বড় কাঠামোগুলোর একটি এটি। এর আয়তন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বর্গফুট। সামনের ও পেছনের অংশ দেখতে অনেকটা ত্রিভুজাকৃতির। ক্যাফেটেরিয়ার পেছনে রয়েছে হোগলাবন, পাশে বাঁশঝাড়। অন্য পাশে ছোট্ট একটি পুকুর, যেখানে ফুটে থাকে পদ্মফুল। সব মিলিয়ে স্থাপনাটি ক্যাম্পাসে সুন্দরবনের আবহ তৈরি করেছে।
অদম্য বাংলা
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ‘অদম্য বাংলা’। ২৩ ফুট উঁচু এই ভাস্কর্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তিনজন পুরুষকে বিপ্লবী ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের পাশে রয়েছে বাংলার সংগ্রামী নারীর প্রতিকৃতি। এক হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, অন্য হাত উত্তোলিত। দৃঢ়চিত্তে তিনি যেন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। ভাস্কর্যটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালির প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও রয়েছে নান্দনিকতার অনন্য প্রকাশ। ব্যতিক্রমী এই শহীদ মিনারে কলমের আদলে নির্মিত একটি সুউচ্চ লম্বতল ভাষা ও জ্ঞানচর্চার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলমের নিবের মাথায় যুক্ত করা হয়েছে ঘনক আকৃতির একটি ফোঁটা, যা ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক। পুরো কলমটি একটি খোলা চোখের গোলাকার আকৃতির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করেছে। স্থাপনাটির নকশায় ভাষা, জ্ঞান ও আত্মত্যাগের ভাবনাকে একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
কটকা
সুন্দরবনের কটকায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার স্মৃতিও বহন করছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ২০০৪ সালের ১৩ মার্চ কটকায় সফরকালে সমুদ্রের পানিতে ডুবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়জন ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুজনসহ মোট ১১ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। তাঁদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে এই স্মৃতিস্তম্ভ।
লেকসাইড
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক পেরিয়ে ভেতরে এগোলেই চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা এক মনোরম জলরাশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিন লেককে প্রথম দেখায় অনেকের কাছেই সুন্দরবনের কথা মনে হতে পারে। শিক্ষার্থীদের কাছে এটি পরিচিত ‘মিনি সুন্দরবন’ নামে। লেকের দুই পাশে সারি সারি সুন্দরী গাছ, মাঝখানে সবুজ জলরাশি। প্রকৃতির এই শান্ত পরিবেশ শিক্ষার্থীদের কাছে ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌফিক আলম নিঝুম বলেন, “বাংলাদেশের যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে, তার মধ্যে খুবি আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর। সাজানো-গোছানো এমন একটি ক্যাম্পাস পেয়ে আমি আনন্দিত ও গর্বিত।”









