বাতিল হচ্ছে
জাইকার ঋণের বিদ্যুৎ প্রকল্প

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কাজ শেষ না করেই বাতিল করা হচ্ছে রাজধানীর গুলশানে ১৩২/৩৩/১১ কেভি ভূগর্ভস্থ গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ২৪৭ কোটি ৩৭ লাখ, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ ৬২৮ কোটি ৯৬ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (ডেসকো) নিজস্ব তহবিল থেকে ৭৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা। তবে এরই মধ্যে প্রকল্পের আওতায় খরচ হয়ে গেছে ৭৭ কোটি ৮১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। দরপত্র প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে না বর্তমান সরকার। ফলে এটি বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামীকাল বুধবার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করা হবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ আগামীর সময়কে বলেছেন, বাতিল কোনো সমাধান নয়। তবে মনে হচ্ছে, যে ধরনের স্টাডি করা হয়েছিল, তা ভুল ও অবাস্তব ছিল। তখন যারা ডিপিপি তৈরি করেছিল, তাদের এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এত টাকা ও সময় অপচয় হওয়ায় তাদের অবশ্যই শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রকল্পের অনুমোদিত কাজ অসমাপ্ত রেখে প্রকল্প সমাপ্ত করার কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাইকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঋণচুক্তি শর্ত অনুযায়ী জাইকার অর্থায়নে ভূগর্ভস্থ উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস কনসালট্যান্ট এবং ডেসকোর নিজস্ব অর্থায়নে সুপারস্ট্রাকচারের ডিজাইন কো-অর্ডিনেশনের জন্য স্থানীয় আর্কিটেকচারাল ফার্ম (লোকাল কনসালট্যান্ট) নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর যৌথভাবে ৩৫-তলার সুপারস্ট্রাকচার নির্মাণের ডিজাইন, ড্রয়িং, টেন্ডার ডকুমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম শেষ করে। দরপত্র আহ্বান করা হলে দুজন দরদাতা তাদের দরপত্র জমা দেন। কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি দরপত্রের কারিগরি প্রস্তাব মূল্যায়িত হয়। আর্থিক মূল্যায়নের সময় দেখা যায়, সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দর প্রায় ৮৮০ কোটি টাকা, যা প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৭১ শতাংশ বেশি। এরপর দরদাতার সঙ্গে আলোচনার পর সামান্য দর কমাতে রাজি হয়। এ পর্যায়ে ফের দরপত্র আহ্বান করার সুপারিশ দেয় কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। সেটি পাঠানো হয় জাইকার কাছে। কভিড এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অস্থির বাজারমূল্য বিবেচনায় আবার দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেয় জাইকা। এ সময় ডেসকো বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরদাতার দরের ন্যায্যতা পর্যালোচনা করার জন্য বুয়েটকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তারা জানায়, বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় দরদাতার সঙ্গে চুক্তি করা যাবে না। এরপর অনেক যাচাই-বাছাই করে প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।







