বাতিল হচ্ছে
চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেটর নিয়োগ
- নেপথ্যে সিন্ডিকেট
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে গঠিত হয়েছে সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম বন্দরের ছয়টি জেটিতে খোলা পণ্য (বাল্ক) খালাসের দরপ্রস্তাব বাতিল করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (একনেক)। গত ২২ জুলাই নেওয়া এ সিদ্ধান্তে বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বার্থ অপারেটররা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি। দরপ্রস্তাব বাতিলের পাশাপাশি নতুন দরপত্রের শর্ত নির্ধারণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার, যা দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার ইতিহাসে নজিরবিহীন।
দরপ্রস্তাব বাতিলে সরকারি আদেশে স্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আদেশে দুটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে— বর্তমান দরপত্রে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা এবং নতুন দরপত্র আহ্বানে গঠিত কমিটির সুপারিশ বিবেচনায় নেওয়া। তবে বার্থ অপারেটরদের মতে, এই বাতিলের নেপথ্যে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। ছয় অপারেটরের মধ্যে দুজনকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তারা হলেন রুহুল আমিন অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক শাহ আলম বাবুল এবং ইউনাইটেড ট্রেডিংয়ের এম এ বকর। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন এবং তখন অবজ্ঞা করেছিলেন বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতাকে (বর্তমান মন্ত্রী)।
এম এ বকরও একইভাবে অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, ‘কতজন কত কথাই তো বলছে। ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ খসরু ভাইয়ের (অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী) ইলেকশন ক্যাম্পেইনে আমি সরাসরি অংশ নিয়েছি। ১৯৯১ সাল থেকেই খসরু ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করছি। কে, কেন, কীভাবে— এসব আনলো জানি না। আমি রাজনৈতিক নেতা নই। আওয়ামী লীগ করার তো প্রশ্নই আসে না।’
বন্দরে কর্মরত বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ২০০৮ সাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) ১২টি জেটিতে ১২টি প্রতিষ্ঠান একচেটিয়াভাবে কাজ করছে। দরপত্রে কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়ায় নতুন কেউ কাজ পাওয়ার সুযোগ পেত না। এবারও ছয়টি জেটির জন্য অপারেটর নিয়োগে আগের শর্তেই দরপত্র ডাকা হয়। কার্গো বার্থের দরপত্রে কনটেইনার বার্থের ছয় প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। পরে যাচাই-বাছাই ছাড়া ওই ছয় প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত করে বন্দর বোর্ড, যা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় হয়ে পাঠানো হয় একনেকে।
চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, প্রত্যেক অপারেটরের দেওয়া দর দেখলেই বোঝা যায় এটি লোকদেখানো প্রতিযোগিতা ছিল। সবার দরই ছিল প্রায় ৪৪ কোটি টাকার কাছাকাছি। রুহুল আমিন অ্যান্ড ব্রাদার্স ৪৪ কোটি ২ লাখ, এ ডব্লিউ খান অ্যান্ড কোম্পানি ৪৩ কোটি ৯৯ লাখ, ইউনাইটেড ট্রেডিং কোম্পানি ৪৪ কোটি ১ লাখ, কসমস এন্টারপ্রাইজ ৪৪ কোটি, ফোর জুয়েল স্টিভিডোরিং সিন্ডিকেট ৪৪ কোটি এবং পঞ্চরাগ উদয়ন সংস্থা ৪৪ কোটি ২ লাখ টাকার প্রস্তাব দেয়। মূলত যোগসাজশের মাধ্যমেই কাজটি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে সেটি আটকে গেল।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত করতে চাইলে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদেরও এই দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জানালেন, ‘আমরা আশা করব নতুন দরপত্রে এই সেক্টরে কাজ করা অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেবে। এতে ব্যবসার খরচ কমবে। কাজের মান বাড়বে।’







