সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ড মালিকের অবহেলা নিরাপত্তা ঘাটতি ছিল
- মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন

ফাইল ছবি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ’-এ স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ইয়ার্ড মালিকের চরম অবহেলা, নিরাপত্তাব্যবস্থার মারাত্মক ঘাটতি এবং জাল সনদের প্রমাণ পেয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি।
গতকাল সোমবার দুপুরে শিল্প মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির স্পষ্ট জানিয়েছেন, তদন্তে কারও অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। গত ১৪ জুনের এই ভয়াবহ ঘটনার পর নতুন সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ধারাবাহিকতায় দ্রুততম সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে আনা হলো বলে জানান মন্ত্রী।
গত ১৪ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় সংঘটিত দুর্ঘটনায় কর্মরত ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান। হতাহতের ঘটনার বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং রুলসের ইয়ার্ড মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি কর্তৃক সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এমটি রাসি নামের জাহাজের ৩ নম্বর ওয়াটার ব্যালাস্ট ট্যাংকে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানির সঙ্গে বিলজ ও সুয়েজ মিশ্রিত হয়ে পরিবেশটি অক্সিজেনশূন্য হয়ে পড়ে। সেখানে ‘সালফেট-বিজারণকারী ব্যাকটেরিয়া’ তৈরি হয়ে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত ও নিউরোটক্সিক হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। বুয়েট অধ্যাপক ও তদন্ত কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত খান জানালেন, পানি নিষ্কাশন বা কাটার সময় এই গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা ঘনমাত্রায় ১০০ পিপিএমের বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে শ্রমিকদের শ্বাসরোধ ও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অনুসন্ধানে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও গাফিলতির বিষয় সামনে এসেছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সময় শ্রমিকদের ন্যূনতম গ্যাস মাস্ক কিংবা রেসকিউ সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি, এমনকি উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া শ্রমিকরাও সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া প্রবেশ করায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কোনো ধরনের সেফটি ক্লিয়ারেন্স ও তদারকি ছাড়াই কাজ চালানো হচ্ছিল, যার ফলে দুর্ঘটনাস্থলে সেফটি ম্যানেজার, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক বা জরুরি উদ্ধারকারী দলের কেউ উপস্থিত ছিল না। এ ছাড়া ইন্টারটেক কিমস্কো নামক একটি প্রতিষ্ঠান প্রকৃতপক্ষে সব ট্যাংক পরীক্ষা না করেই জাহাজটিকে ‘গ্রহণযোগ্য’ বা গ্যাসমুক্ত সনদ দেয়, যেখানে হাইড্রোজেন সালফাইড পরীক্ষার কোনো উল্লেখই ছিল না।







