সংলাপে বাণিজ্যমন্ত্রী
সাভারে হচ্ছে নতুন বিশ্বমানের সিইটিপি

সংগৃহীত ছবি
দেশের চামড়াশিল্পের পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত ও বর্জ্য শোধন সংকট নিরসনে সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীতে একটি নতুন বিশ্বমানের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক নীতি সংলাপে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বর্তমানে সাভারে নির্ধারিত ২৫ হাজার ঘনমিটার সক্ষমতার বিপরীতে কার্যকরভাবে মাত্র ১৪-১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন করা যাচ্ছে। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতেই বিদ্যমান সিইটিপি সংস্কারের পাশাপাশি নতুন এই সিইটিপি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশের চামড়াশিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে ট্যানারি খাতে ব্যাপক সংস্কার, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের চামড়া খাতের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও সংস্কার’ শীর্ষক নীতি সংলাপে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক হলেও বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে শিল্পটি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন বিনিয়োগ করেও যারা বর্তমানে নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী বা সক্ষম নন, তাদের জন্য ‘গ্রেসফুল এক্সিট’-এর সুযোগ তৈরি করা হবে, যাতে নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের আসার পথ সুগম হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ট্যানারি ব্যবসায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জন বাধ্যতামূলক করা হবে। কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে দেশে প্রক্রিয়াজাত করে জুতা, ব্যাগ ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে ‘বাংলাদেশ লেদার’ ব্র্যান্ড গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে উপস্থিত ছিলেন। সংলাপে আরও বক্তব্য দেন ফ্ল্যাক্সার সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ট্যানারি ও পাদুকা উদ্যোক্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা।





