সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তির শঙ্কা
- সিপিডির ওয়েবিনার
- আগামী বছরে দাতা সংস্থার অনুদান কমতে পারে ৩০% পর্যন্ত

সংগৃহীত ছবি
আগামী বছর বৈশ্বিক নানা সংকটের কারণে দাতা সংস্থাগুলোর অনুদান কমতে পারে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। এর ফলে বাংলাদেশের মতো বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলো বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সর্বশেষ ‘মাল্টিল্যাটারাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স ২০২৬’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়নে এই নেতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র।
এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণে গতকাল বুধবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এবং ওআইসিডির যৌথ উদ্যোগে একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে ওআইসিডির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হেনরি-বার্নার্ড সোলিনিয়াক-লেকোমতে এবং প্রতিবেদনের সহ-লেখক লিওনার্দো আলটিয়েরি, মারিয়াস গুয়েরিনসহ দক্ষিণ এশিয়ার গবেষকরা অংশ নেন।
ধনী দেশগুলো হঠাৎ তাদের সাহায্য বাজেট কমিয়ে দেওয়ায় ২০২৪ সালেই বৈশ্বিক অনুদান প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গেছে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত আরও সংকুচিত হতে পারে। ওআইসিডির এই পূর্বাভাস বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সহজ শর্তের ঋণ, জলবায়ু তহবিল এবং এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) উত্তরণ-পরবর্তী চাহিদার ক্ষেত্রে বড় বিপদের সংকেত। ড. ফাহমিদা খাতুন সতর্ক করেন, বৈশ্বিক অর্থায়নের এই উল্টো গতি দেশের আসন্ন এলডিসি উত্তরণের সময়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
অবশ্য ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বাংলাদেশ এরই মধ্যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ ও বন্ড মার্কেটের উন্নয়নের মাধ্যমে নিজস্ব অর্থায়ন কৌশলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, বৈশ্বিক ফান্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসে মাত্র ১১টি ধনী দেশ থেকে। তারা সাহায্য কমিয়ে দেওয়ায় বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তের ঋণের (আইডিএ) প্রায় ৫৮ শতাংশ প্রতিশ্রুত অর্থ ঝুঁকির মুখে। এই ফান্ডের এক ডলার কমলে মাঠপর্যায়ে ক্ষতি হয় তিন থেকে চার গুণ। ফলে বাংলাদেশের কম সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে। একইভাবে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের (জিসিএফ) ৬৯ শতাংশ এবং গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটির (জিইএফ) ৬৩ শতাংশ তহবিল হুমকির মুখে পড়ায় জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের অভিযোজন প্রকল্পগুলো বড় ধাক্কা খেল।
এরই মধ্যে বিশ্ব জুড়ে জাতিসংঘের শীর্ষ সংস্থাগুলোর অর্থ ছাড়ে বড় ধস নেমেছে। সাউদার্ন ভয়েসের গবেষণা প্রধান ড. প্রত্যুষ শর্মা বললেন, এই বাজেট কাটার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি মাঠপর্যায়ের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। শ্রীলঙ্কার গবেষক ড. রোশ অ্যান পেরেরা সতর্ক করেন, সহজ শর্তের ঋণের সুযোগ হারালে দেশগুলো ব্যয়বহুল বাণিজ্যিক ঋণের ফাঁদে পড়বে। নেপালের ড. পারস খরেলও মনে করেন, অর্জিত উন্নয়ন ধরে রেখে টেকসই এলডিসি উত্তরণের জন্য অবিচ্ছিন্ন বৈশ্বিক সহায়তা প্রয়োজন।
ওয়েবিনারের সমাপ্তিতে বক্তারা বললেন, পশ্চিমা দেশগুলো বাজেট কমালেও চীন, ভারত, কাতার ও আরব আমিরাতের মতো উদীয়মান দেশগুলো অর্থায়নে অবদান বাড়াচ্ছে। তাই বাহ্যিক ধাক্কা সামলাতে দ্বিপক্ষীয় কূটনীতি জোরদার করা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ শক্তিশালী করা এবং সাশ্রয়ী অর্থায়নে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দিকেই এখন বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে।




