চীনা অর্থায়নে ফিরছে বাদপড়া প্রকল্প

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অবশেষে আশা জেগেছে আখাউড়া-সিলেট মিটারগেজ রেললাইনে। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এটি ডুয়েলগেজে রূপান্তরের উদ্যোগ। অর্থের অভাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল ‘আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তর’ নামের প্রকল্পটি; কিন্তু চীন থেকে ঋণ পাওয়া যাবে এমন আশ্বাসে আবারও ফিরছে প্রকল্পটি। চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) এডিপিতে যুক্ত করতে পরিকল্পনা কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আজম আগামীর সময়কে বলেছেন, বর্তমানে এ প্রকল্পটির গুরুত্ব কতটা, সেটিও ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে। কেননা এরই মধ্যে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণের একটি উদ্যোগ আছে বর্তমান সরকারের। সেটি হলে এ প্রকল্পের কতটা প্রয়োজন আছে, তাও দেখাতে হবে। সে সঙ্গে পুরনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বাদ দিয়ে নতুন করে সমীক্ষা করা দরকার। কেননা তখনকার পরিবেশ-পরিস্থিতি আর এখনকার অবস্থা এক হবে না। ব্যয়ও সেই সময়ের মতোই যে থাকবে, এমনটি ভাববার কোনো কারণ নেই। এখন তিন গুণ বেশি ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। সুতরাং শুধু বৈদেশিক অর্থায়ন পাওয়াটাই যথেষ্ট নয়, এত টাকা বিনিয়োগের রিটার্নও দেখতে হবে।
জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তর’ প্রকল্পটি। এটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ১০৪ কোটি ৪৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ছিল ৫ হাজার ৪৫০ কোটি ৮ লাখ এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ১০ হাজার ৬৫৪ কোটি ৩৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা। মেয়াদ ধরা হয় ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এডিপিতে ১ লাখ টাকা (সম্পূর্ণ রাজস্ব) বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটির ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি শূন্য শতাংশ। অর্থাৎ ওই ১ লাখ টাকাও খরচ হয়নি।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও বৈদেশিক অর্থ জোগাড় করতে ব্যর্থ হয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। ফলে অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় এবং প্রকল্পের কাজ শুরু করতে না পারায় তৎকালীন রেলপথমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এডিপি পর্যালোচনা সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপি থেকে প্রকল্পটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পরে বাদও দেওয়া হয়েছিল।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ২১ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রকল্পটি চীনের অর্থায়নে জিটুজি (সরকার টু সরকার) ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে গত ১১ জুন পরিকল্পনা কমিশনের চিঠি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, আখাউড়া-সিলেট রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্য চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেগোসিয়েশন কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে আবার অনুমোদিত প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হলো। বিষয়টি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অকাঠামো বিভাগ থেকে এরই মধ্যে সুপারিশসহ কমিশনের কার্যক্রম বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ লাইনে রূপান্তর’ নামের অনুমোদিত প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে (সাময়িকভাবে ১ লাখ টাকা বরাদ্দসহ) অন্তর্ভুক্তি এবং পরে এনইসি সভায় বিষয়টি অবগতির জন্য উপস্থাপন করা যেতে পারে।




