চামড়া খাত
রপ্তানি আয়ে আশা, দেশে হতাশা

চামড়া খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও, অভ্যন্তরীণ বাজারে দীর্ঘদিনের সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি ১০০ কোটি ডলারের ঘরে থাকলেও দেশীয় পর্যায়ে এ খাতটি এখনো বহুমুখী সমস্যার আবর্তে আটকে আছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, স্থানীয় বাজারে হতাশার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যায্যমূল্যের অভাব, মূলধন সংকট ও লোকসান, সিইটিপি ও সনদ সংকট এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম ১০ মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা হয়েছিল ৯৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাতে রপ্তানি আয় ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন বা ১১৪ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) চামড়া খাত থেকে মোট রপ্তানি আয় হয়েছিল ১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন বা ১০৩ কোটি ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় কিছুটা কমে ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন বা ১১৭ কোটি ডলারে নেমে আসে, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ১ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ১২৪ কোটি ডলার।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি আয় প্রতি অর্থবছরে ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তি এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে স্থানীয় ও বৈশ্বিক বাজারের মেলবন্ধন তৈরি করা যাচ্ছে না। পরিবেশগত মান নিশ্চিত করা এবং চামড়া খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এ খাতের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
জানা গেছে, প্রান্তিক পর্যায়ের সংগ্রাহক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রায়ই সরকার নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চামড়া বিক্রি করতে পারেন না। চামড়া সংরক্ষণের অন্যতম উপাদান লবণের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ ও দীর্ঘ প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় মিলিয়ে মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়। চামড়া সংগ্রহ ও বিপণন প্রক্রিয়ায় মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়াদের আধিপত্যের কারণে প্রান্তিক খামারি ও বিক্রেতারা সরাসরি লাভবান হতে পারেন না।
চামড়া খাত বছরের পর বছর ধরে নানা অব্যবস্থাপনা, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতায় এক গভীর সংকটে পড়েছে। মাঠপর্যায়ের মৌসুমি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে পুঁজি হারিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করছেন।
ট্যানারি মালিকরা জানিয়েছেন, সিইটিপির সংস্কার ও পূর্ণসক্ষমতায় পরিচালনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এলডব্লিউজি সনদ পাওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত রাসায়নিক আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা ও সহজ অর্থায়ন করতে হবে।






