কদর কমছে লেপ-তোশকের বাড়ছে কমফোর্টারের

শীত সামনে রেখে তোশক সেলাইয়ে ব্যস্ত কারিগর। সম্প্রতি কারওয়ান বাজার থেকে তোলা - মহুবার রহমান
প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে হিমেল হাওয়া, নামছে শীত। শীতের এই আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বাজারগুলোয় শীতবস্ত্রের বেচাকেনাও শুরু হয়েছে। তবে এবারের শীতে অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন স্পষ্ট। একসময় শীত নিবারণে প্রধান ভরসা ঐতিহ্যবাহী লেপ-তোশকের কদর দিন দিন কমে যাচ্ছে আর সে জায়গা দ্রুত দখল করে নিচ্ছে দেশি-বিদেশি কমফোর্টার ও ম্যাট্রেস। রাজধানীর নীলক্ষেত, কারওয়ান বাজার, বায়তুল মোকাররম ও গুলিস্তান এলাকার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, কারিগরের সংকট এবং ব্যবহারে নানা অসুবিধার কারণে ক্রেতারা এখন লেপ-তোষকের চাইতে কমফোর্টারের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। দুই-তিন বছর আগেও লেপ-তোশকের চাহিদা ছিল। কিন্তু গত বছর থেকে কমফোর্টার বেশি কিনছেন ক্রেতারা।
ভোক্তাদের রুচি ও চাহিদাতেই এ রূপান্তরের কারণ লুকিয়ে রয়েছে। একটি রেডিমেড কমফোর্টার ওজনে বেশ হালকা, সহজে ধোয়া যায় এবং ভাঁজ করে রাখাও সুবিধাজনক। দামের দিক থেকেও এটি লেপের প্রায় কাছাকাছি। বাজারে বর্তমানে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যেই চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা উন্নতমানের কমফোর্টার পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যবহারিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে বায়তুল মোকাররম মার্কেটে কমফোর্টার কিনতে আসা ক্রেতা মো. শাকিল আগামীর সময়কে বললেন, ‘এখন লেপের চেয়ে কমফোর্টার ভালো। সহজে বহন করা যায়, পরিষ্কার করা যায়। তেমন ঝামেলা নেই।’
ব্যবসায়ীরা জানালেন, গত কয়েক বছরে কাঁচামালের দাম ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। একসময় শিমুল তুলা কেজিপ্রতি ১৫০-২০০ থাকলেও তা এখন ২৮০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একটি ভালোমানের মাঝারি আকারের লেপ তৈরি করতে ক্রেতার খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। এই টাকাতেই কেনা যাচ্ছে পছন্দের কমফোর্টার।
নীলক্ষেত সিটি করপোরেশন মার্কেটের নিউ বিসমিল্লাহ বেডিং স্টোরের পরিচালক মো. মোস্তফা আগামীর সময়কে জানালেন, ‘কয়েক বছর আগেও শীতের শুরুতে লেপ-তোশকের ভালো অর্ডার আসত। এখন খুবই কম। সারা দিনে দোকানের অন্যান্য সব পণ্য মিলিয়ে তিন-চার হাজার টাকা বেচাকেনা হয়। অর্ডার না থাকায় কর্মচারীদের কাজও কমে গেছে। তাদের অনেকেই অন্য পেশায় চলে গেছে।’
কাঁচামালের দাম ও আধুনিক পণ্যের প্রসারে লেপের কদর কমার বিষয়টি স্বীকার করলেন নীলক্ষেত সিটি করপোরেশন মার্কেটের নূর বেডিং স্টোরের স্বত্বাধিকারী আবরার হামিম। তার ভাষ্য, ‘বর্তমানে বাজারে কমফোর্টার বেশি চলে এবং সে তুলনায় লেপ এখন কম চলে। মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। যদিও আমার কাছে লেপ-তোশকই ভালো মনে হয়।’
লেপ-তোশকের এ সংকটের বিপরীতে আমদানি করা পণ্যের ওপর ভর করে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন রেডিমেড শীতবস্ত্রের ব্যবসায়ীরা। বিদেশ থেকে আমদানি করা এসব কমফোর্টার বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদের কারিগর বা উৎপাদনের কোনো ঝুঁকিতে পড়তে হয় না। বায়তুল মোকাররম মার্কেটের রাউফিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আজিজ মিয়া আগামীর সময়কে বললেন, ‘আমরা ইম্পোর্টারের থেইকা কম্বল আর কমফোর্টার নিয়া বিক্রি করি। দিনে ১০-১৫ হাজার টাকা বিক্রি হয়। সামনে যেহেতু শীত, আশা করি বিক্রি আরও বাড়বে।’




