আজ ‘হারি মারদেকা’

মালয়েশিয়ার নাগরিকরা প্রতি বছর আজকের দিনে ‘মারদেকা দিবস’ উদযাপন করেন
প্রতি বছর ৩১ আগস্ট বর্ণ, ধর্ম ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সব মালয়েশীয় একত্রিত হয়ে দেশের ‘মারদেকা দিবস’ বা স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেন। ১৯৫৭ সালের ৩১ আগস্ট ঘোষিত দেশের ঐতিহাসিক স্বাধীনতাকে স্মরণ করতেই এ উদযাপন।
সেই স্মরণীয় দিনের ঠিক পূর্বসন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার জনগণ ব্রিটিশ ইউনিয়ন জ্যাক পতাকা অবনমন এবং মালয়ের নতুন পতাকা উত্তোলনের ঐতিহাসিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে কুয়ালালামপুরের সেলাঙ্গোর ক্লাব প্যাডাঙে সমবেত হয়েছিলেন।
পরদিন সকালে হাজার হাজার মানুষ কুয়ালালামপুরের মারদেকা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। সেখানে রানীর প্রতিনিধি ডিউক অব গ্লস্টার দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী টুঙ্কু আব্দুর রহমানের হাতে স্বাধীনতার প্রতীক তুলে দেন। এরপর টুঙ্কু স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন এবং উপস্থিত জনতার সঙ্গে একযোগে সাতবার ‘মারদেকা’ (স্বাধীনতা) বলে ধ্বনি দেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে মালয়ের স্বাধীনতার সূচনা করে। পরে ১৯৬৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সাবাহ এবং সারাওয়াক মালয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গঠন করে ‘ফেডারেশন অব মালয়েশিয়া’।
প্রতি বছর মারদেকা দিবস উদযাপনের অর্থ শুধু জাতীয় পতাকা উঁচুতে ওড়ানো বা রাজপথে শোভাযাত্রা করা নয়; এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব এবং বর্ণ ও ধর্ম নির্বিশেষে একজন মালয়েশীয় হিসেবে গর্ববোধ করার দিন।
মালয়েশিয়ার জনগণের জন্য এটি স্বাধীনতা অর্জনে অতীত নেতাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করা এবং শ্রদ্ধা জানানোর সময়। অন্যদিকে পর্যটক বা বিদেশিদের জন্য এটি একটি বর্ণিল উদযাপনের মুহূর্ত।
মালয়েশিয়ার মারদেকা দিবস একটি জাতীয় ছুটির দিন এবং অত্যন্ত জমকালো ও আড়ম্বরের সঙ্গে এটি পালিত হয়। এই তাৎপর্যপূর্ণ দিনটিকে স্মরণে রাখতে প্রতি বছর জাতীয় মারদেকা দিবস প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। উদযাপনে থাকে নৃত্যশিল্পীদের চোখধাঁধানো পরিবেশনা, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর কুচকাওয়াজ এবং উদযাপনের মূল ভাবধারা (থিম) ও বিভিন্ন সংস্থার কাজকে ফুটিয়ে তোলা মনোরম সুসজ্জিত ভাসমান ট্যাবলোর (ফ্লোট) প্রদর্শনী।







