চট্টগ্রাম-রেনং সমুদ্রপথ ও এফটিএর দিকে নজর
- বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড বাণিজ্যে নতুন মোড়

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানের বাজার ধরতে থাইল্যান্ডের সঙ্গে কৌশলগত অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন করছে বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে যৌথ উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম ও রেনংয়ের মধ্যে সরাসরি সমুদ্র সংযোগ স্থাপন এবং মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি দূর করার সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের এই সমন্বিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর আগে তিনি থাইল্যান্ড চেম্বারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ মাত্র সাড়ে ৮ কোটি ডলারের কাছাকাছি। থাই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রায় ৯৫ কোটি ডলারের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পারস্পরিক বিনিয়োগ ও যৌথ শিল্পায়নের কথা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এই ৯৫ কোটি ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতি শুধুই সাধারণ আমদানি-রপ্তানি বাড়িয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে যৌথ উৎপাদন নেটওয়ার্ক এবং সমন্বিত শিল্পায়নের কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
থাই চেম্বারের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগের সম্ভাব্য খাতগুলো তুলে ধরেন উপদেষ্টা। এতে অগ্রাধিকার পায় কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং প্রক্রিয়াজাত হালাল খাদ্য উৎপাদন। বিশেষ করে আম ও কাঁঠালের মতো মৌসুমি কৃষিপণ্যের অপচয় রোধে থাই প্রযুক্তি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। হিমাগার ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণে আম, কাঁঠাল ও লিচু নষ্ট হয়ে যায়, যার প্রত্যক্ষ মাশুল গুনতে হয় কৃষককে। এ সংকটের টেকসই সমাধানে এবং প্রক্রিয়াজাত হালাল খাদ্য বিশ্ববাজারে পাঠাতে থাই বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
এদিকে পণ্য পরিবহন গতিশীল করতে থাইল্যান্ডের রেনং বন্দর ও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয় ওই বৈঠকে। এটি বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়ীরা সহজে ও কম খরচে কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং শিল্পের কাঁচামাল পরিবহন করতে পারবেন। এ ছাড়া থাইল্যান্ড ও আসিয়ানভুক্ত অন্য দেশগুলোর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনাও সক্রিয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে শুধু থাইল্যান্ডই নয়, চীন, জাপানের টয়োটা ও মারুবেনি করপোরেশন এবং মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাড়ানোর বিষয়ে যোগাযোগ চলছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরিতে নীতিগত স্থিতিশীলতা, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় ওই বৈঠকে। একই সঙ্গে বন্ধ কলকারখানা চালুর লক্ষ্যে ৭ শতাংশ ঋণাত্মক সুদে অর্থায়নের বিশেষ সুবিধাও রাখা হয়েছে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।



