রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ ব্যাংকের খেলাপি ১.৮৯ লাখ কোটি টাকা
- সংসদে অর্থমন্ত্রী-
- খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি সংস্কারসহ একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপ

সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি সংস্কার এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি) গঠনসহ একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল রবিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডেটাবেজে সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে— অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।
ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোকে সরকারের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা: দ্রুত ঋণ নিষ্পত্তির জন্য নতুন ‘রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি গাইডলাইন’ প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন’ হালনাগাদ করা হচ্ছে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা: আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা বাড়াতে ‘আইএফআরএস-৯’ বাস্তবায়ন, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জামানত মূল্যায়ন এবং কৃষিঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালা আধুনিক করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঋণ আদায়কারী কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা এবং নিয়মিত কিস্তি পরিশোধকারী ভালো গ্রাহকদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: একজন গ্রাহক পুরো ব্যাংক খাত থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা ঋণ নিতে পারবেন, তার আইনি সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠনের আইন প্রণয়ন এবং অর্থঋণ আদালতের বিচারক প্যানেলে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংসদে জানানো হয়, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের সংকট মোকাবিলায় ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ এবং আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চেক জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার মামলার বিচার দ্রুত করতে ‘নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইন’ সংশোধন করা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সংশোধিত আইনের মাধ্যমে অভিজ্ঞ পেশাদারদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে জনআস্থা ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘যারা জনগণের অর্থ লুটপাট করেছে এবং বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আপস ছাড়াই আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’
‘এরই মধ্যে অনেকগুলো মামলা করা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে’— যোগ করেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেছেন, ‘যারা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। বিএনপি বা সরকার— কেউই তাদের সঙ্গে কোনো আপস করবে না।’
সংরক্ষিত সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘গত পাঁচ বছরে এনবিআরের অধীনে বিভিন্ন কাস্টম হাউজে আমদানি পণ্যের ওপর বকেয়া শুল্ক ও কর বাবদ ২৫ হাজার ৫০৪ কোটি ৩০ লাখ কোটি টাকা বকেয়া আছে।’




