সাক্ষাৎকার
‘দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংকঋণে সীমা আরোপ জরুরি’

ভর্তুকি চাপ, ব্যাংক খাতের অস্থিরতা, মন্দা বাজারের মধ্যে ঘোষণা হচ্ছে আগামী অর্থবছরের বাজেট। এ নিয়ে আগামীর সময়ের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি নুরুজ্জামান তানিম
আগামীর সময়: শেয়ারবাজারের উন্নয়নে বাজেটে কী পদক্ষেপ রাখা উচিত?
আল-আমিন: ভালো ও বড় কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংকঋণে সীমা আরোপ জরুরি। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর ব্যবধান ১০ থেকে ১২ শতাংশ করা উচিত; যেন ভালো কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে উৎসাহিত হয়।
আগামীর সময়: রাজস্ব আহরণের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ কতটা বাস্তবসম্মত?
আল-আমিন: মূল সমস্যা হলো কর সংগ্রহের দুর্বলতা এবং কর ফাঁকি। করব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করতে হবে এবং পজ মেশিনের মাধ্যমে সরাসরি ভ্যাট সরকারি ট্রেজারিতে জমার ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়মিত করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার বন্ধে জোর দেওয়া বেশি কার্যকর হবে।
আগামীর সময়: ঋণ পরিশোধের চাপ ও বিনিয়োগ সংকট মোকাবিলায় কী করণীয়?
আল-আমিন: বিনিয়োগ বাড়াতে স্থিতিশীল নীতি ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ অপরিহার্য। হুন্ডি ও অর্থ পাচার রোধ করে বৈধপথে রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে এবং ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ও সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
আগামীর সময়: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?
আল-আমিন: বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি এবং সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা জরুরি। বাজারে চাঁদাবাজি, কৃত্রিম সংকট ও মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
আগামীর সময়: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে আপনার মত কী?
আল-আমিন: বরাদ্দ বাড়ানো ইতিবাচক হলেও শুধু বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ হবে না, যদি না চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষার মান বাড়ে। বরাদ্দের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
আগামীর সময়: আইএমএফের ভর্তুকি কমানোর চাপকে কীভাবে দেখছেন?
আল-আমিন: বাংলাদেশের বাস্তবতায় হঠাৎ ভর্তুকি কমানো সম্ভব নয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম একসঙ্গে অনেক বাড়ালে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। তাই ভর্তুকি কমানোর আগে বিদ্যুৎ খাতের অপচয় ও অদক্ষতা দূর করতে হবে।
আগামীর সময়: বাজেটে কোন খাতগুলো বেশি অগ্রাধিকার পাবে?
আল-আমিন: আসন্ন বাজেটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ভর্তুকি, ব্যাংক খাত পুনর্গঠন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি অগ্রাধিকার পাবে। চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর জন্য সরকারের পরিচালন ব্যয় বাড়বে।
আগামীর সময়: বাজেট বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী হতে পারে?
আল-আমিন: প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আহরণ, বিদ্যুৎ খাতের বিপুল ভর্তুকি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। রাজস্ব আদায়ে গতি না থাকায় অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা সুদের হার নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ও নীতিগত স্থিতিশীলতার অভাব অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
আগামীর সময়: অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও বড় বাজেট কতটা যৌক্তিক?
আল-আমিন: বাজেট বড় হওয়া সমস্যা নয়, যদি তা বাস্তবায়নযোগ্য হয়। অনেক সময় বড় বাজেট দেওয়া হলেও পরে সংশোধিত বাজেটে তা কমাতে হয়। তাই বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দক্ষ বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আগামীর সময়: প্রতি বছর পরিচালন ব্যয় বাড়া অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে?
আল-আমিন: প্রবৃদ্ধির সঙ্গে পরিচালন ব্যয় বাড়া স্বাভাবিক। কিন্তু অদক্ষতা, অপচয় এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়লে তা অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক হয়ে দাঁড়ায়।




