না হেরেও বিদায় মারুফুলের দলের

সংগৃহীত ছবি
গতকালকে পর্তুগাল-চিলি প্রীতি ম্যাচে রাফায়েল লেওর ঘুষিতে উত্তাল হয়েছিল ওইরাসের স্টেডিও ডো জামোর। অর্ধবিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে জোয়াও ক্যান্সেলোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিবাদে জড়িয়ে পড়েন লেও ও চিলির ইভান রোমান, এবং দুজনকেই লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য হন রেফারি। তবে বিশ্বমঞ্চের এই ঘটনাকেও যেন ছাপিয়ে গেল ছোট্ট এক দ্বীপরাষ্ট্রের জলবায়ু। আজ মালদ্বীপের মাটিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ এবং মালদ্বীপ সিনিয়র দলের ম্যাচের শেষ দৃশ্য ছিল আরও বিশৃঙ্খল — দুই দলের বেঞ্চসহ গোটা দল জড়িয়ে পড়ল হাতাহাতিতে। আর সেই অরাজকতার মধ্যেই বাজল শেষ বাঁশি।
ডায়মন্ড জুবলি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে রোববার রাতে মালদ্বীপ জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মালদ্বীপ সিনিয়র দলের বিপক্ষে ১-১ ড্র করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ । কিন্তু এই এক পয়েন্টে কোনো কাজ হয়নি মারুফুল হকের দলের। টুর্নামেন্টে সব ম্যাচ ড্র করে তৃতীয় স্থানেই থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে। চার পয়েন্ট নিয়ে আফগানিস্তান দ্বিতীয় হয়ে ফাইনালে উঠেছে। আর সাত পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল পাকিস্তান।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ । দ্বিতীয় মিনিটেই মজিবর রহমান জনির ডান পায়ের শট গোলবারের সামান্য উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। পঞ্চম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে হেডেও গোলের কাছে পৌঁছে যান জনি, তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তবে বাংলাদেশের এই আধিপত্য বেশিক্ষণ টেকেনি। দ্বাদশ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর মালদ্বীপের আব্দুল্লা ইব্রাহিমকে ফাউল করেন প্রণয় ইনোসেন্ট মারান্দি। পেনাল্টি থেকে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন অধিনায়ক আলি ফাসির।
সমতায় ফেরার সুযোগ আসে ২৭তম মিনিটে। ডি-বক্সের ভেতর মিরাজুল ইসলাম মাটিতে পড়ে যান আব্দুল্লা ইব্রাহিমের সঙ্গে সংঘর্ষে। তবে কঠিন সিদ্ধান্তে রেফারি সেন্থিলনাথান সেকারন পেনাল্টি দেননি। এতেই মাঠে বাড়তে থাকে উত্তেজনা। ৪৩তম মিনিটে বাংলাদেশের একজন কোচিং স্টাফ রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং রেড কার্ড দেখে মাঠের বাইরে যেতে বাধ্য হন।
তবু বিরতির পর ছবিটা বদলে যায়। ৫৪তম মিনিটে ডি বক্সের ভিতরে ইসমাইল হোসেনের শটে হাত দেন মালদ্বীপের গোসিম থইফ। সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি বাজান রেফারি। পেনাল্টি থেকে দলকে সমতায় ফেরান মিরাজুল ইসলাম। টুর্নামেন্টে এটি বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র গোল।
একটি গোলের পর দুই দলই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু কেউ সফল হয়নি। ৮০তম মিনিটে মালদ্বীপের আহমেদ আইহাম সব ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাংলাদেশের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন। তবে গোলরক্ষক মেহেদি হাসান শ্রাবণ সাহসের সঙ্গে এগিয়ে এসে শট নিতে বাধা দেন। নব্বইতম মিনিটে ইব্রাহিম হুসাইনের জোরালো শটও রুখে দেন শ্রাবণ। পেনাল্টির পর বাংলাদেশ আর একটি শটও অন টার্গেট রাখতে পারেনি।
এরপরই শুরু হয় আসল নাটক। ৯৯তম মিনিটে রেফারির একটি সিদ্ধান্তে বাইরে থেকে উত্তেজিত হয়ে পড়েন মিরাজুল ইসলাম। রেফারিকে সরাসরি হাত তুলে বকাঝকা করতে থাকেন তিনি। ঠিক সে মুহূর্তে মাঠে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বাংলাদেশের আল আমিন। তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। এতে ক্ষোভে রেফারিকে ধাক্কা দেওয়া শুরু করেন আল আমিন। সতীর্থরা তাকে কোনোমতে সরিয়ে নিয়ে যান।
১০১তম মিনিটে বাংলাদেশের ডিফেন্ডার ইসমাইল হোসেন ও মালদ্বীপের ইব্রাহিম নাসিরের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে দুই দলের বাকি খেলোয়াড়রা দলে দলে ছুটে আসেন। মুহূর্তের মধ্যেই দুই দলের বেঞ্চও মাঠে নেমে পড়ে। এমনকি গ্যালারিতে থাকা দর্শকরাও উত্তেজিত হয়ে মাঠে নেমে আসতে চেয়েছিলেন। মুহূর্তেই ফুটবল ম্যাচটি রূপ নেয় যুদ্ধ ক্ষেত্রে। কোচ মারুফুল হক নিজে রিজার্ভ খেলোয়াড়দের মাঠে যেতে বারণ করেন, কিন্তু পরিস্থিতি ততক্ষণে তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই বিশৃঙ্খলার মাঝেই রেফারি বাজান শেষ বাঁশি। ম্যাচটির ফলাফল ড্র হলেও স্মৃতিতে থেকে যাবে শুধু মাঠের অরাজকতাই।




